যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় নিয়ে তুরস্ক যাচ্ছেন জেলেনস্কি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় নিয়ে তুরস্ক যাচ্ছেন জেলেনস্কি

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি তুরস্ক সফর করবেন রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা করতে। মঙ্গলবার তিনি টেলিগ্রামের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, এই সফরের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করা হবে। তবে রাশিয়ার কোনো প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নেবেন না।

বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা আলোচনাকে জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং অংশীদারদের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। যুদ্ধের অবসান আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি বন্দি বিনিময় কার্যক্রমও পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই তুরস্ক সফরের মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে অগ্রগতি সম্ভব হবে, যা ইউক্রেনের জনগণ এবং সামরিক বাহিনীর জন্য আশার সঞ্চার করবে।

এই সফর বুধবারের জন্য নির্ধারিত হলেও জেলেনস্কি কোথায় বৈঠক করবেন বা কার সঙ্গে আলোচনা করবেন, তা নির্দিষ্টভাবে জানাননি। এটি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যেই কিয়েভ এবং মস্কো কিছু দফা সরাসরি আলোচনা করেছে। কিন্তু জুলাই মাস থেকে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে, ফলে আলোচনার অভাব যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফও অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি তুরস্ক সফরে গিয়ে আলোচনা প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। ওয়াশিংটনের অংশগ্রহণ কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে এবং ইউক্রেনের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে ক্রেমলিন থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে রাশিয়া কোনোভাবে অংশ নেবে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “না, আগামীকাল তুরস্কে কোনো রুশ প্রতিনিধি থাকবে না। আপাতত এই আলোচনা রাশিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।” এটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের তুরস্ক সফর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির সহায়তায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সমাধান আনার লক্ষ্য বহন করছে। যদিও রাশিয়ার অনুপস্থিতি আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলবে, তবু ইউক্রেন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সমর্থনে পরিস্থিতি এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভের চেষ্টা ছিল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মাধ্যমে যুদ্ধে স্থিতিশীলতা আনা। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যেই কয়েক দফা আলোচনা হলেও রাশিয়ার স্থগিতকরণ সমস্যাকে জটিল করেছে। তুরস্কের ভূমিকা বিশেষ করে কূটনৈতিক সংলাপ এবং মানবিক সমাধান আনতে গুরুত্বপূর্ণ।

এই সফরের মাধ্যমে জেলেনস্কি কেবল যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবেন না, বরং বন্দি বিনিময় কার্যক্রমকে পুনরায় শুরু করার জন্য কৌশলগত প্রস্তাবও উপস্থাপন করবেন। বন্দি বিনিময় উভয় পক্ষের জন্য মানবিক ও নৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে দীর্ঘকাল ধরে বন্দি থাকা সেনা ও নাগরিকদের মুক্তি এবং পরিবারগুলোর পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্ক সফরের সাফল্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও চাপ বৃদ্ধিতে নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারে। পাশাপাশি এটি ইউক্রেনের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, যদিও রাশিয়ার অংশগ্রহণের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সফর যুদ্ধবিরতি আনার প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়াসের অংশ। ইউক্রেনের জনগণ, যোদ্ধারা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিত আলোচনা যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়কে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এটি শুধু কূটনৈতিক সফলতা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলনও হিসেবে দেখা হবে।

সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা যায়, তুরস্কে জেলেনস্কির সফর যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি মুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটাবে। যদিও রাশিয়ার অংশগ্রহণ নেই, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রক্রিয়াটিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউক্রেনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত