হাসিনা রায় ঘিরে বিচারক-প্রসিকিউটর হত্যার হুমকি, শরীফ গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
হাসিনা রায় ঘিরে বিচারক-প্রসিকিউটর হত্যার হুমকি, শরীফ গ্রেফতার

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় দোষারোপপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার রায়কে কেন্দ্র করে আন্তরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এপ্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকির ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে প্রসিকিউশন। বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন, মো. শরীফ নামে ওই ব্যক্তি এই অভিযোগের সঙ্গে জড়িত।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনায় মোট চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভোলা এলাকার একজন সন্দেহভাজন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার শরীফ ভোলার লালমোহন উপজেলার সাতআনি গ্রামে থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তদন্ত কর্মকর্তা জোহা জানিয়েছেন, “শরীফের ফেসবুক পেজ ও অন্যান্য সোশ্যাল প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাঁকে শুধু ছবি শেয়ার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, ভয়ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যেও সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।”

জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বলপূর্বক দমন-পীড়ন ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে ষড়যন্ত্র, হত্যা এবং সমাজবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দায়ী করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, যাদের মধ্যে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার রয়েছেন, তাঁরা দোষারোপ প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিলেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি এবং উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য আইনগত প্রক্রিয়ার উপর বলপ্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তারের একটি অংশ হতে পারে। জোহা বলেন, “এ ধরনের হুমকি শুধুমাত্র বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার বাইরে, রাজনৈতিক আন্দোলনকে ভীতি ও গুজবে টেনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পিত কৌশল হতে পারে।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও বিচারকবৃন্দ ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছে। তারা বলেছে, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিচার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক মহলে ধাক্কা লেগেছে। অনেকে বলছেন, শুধু বিচারই নয় — বিচার প্রক্রিয়ার নিরাপত্তাও এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা রায়ের আগে সামাজিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক চাপে আরও বাড়তি মাত্রা এনেছে।

মূলত, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্বজনরা এই রায়কে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হিসেবে দেখেছিলেন। একই সময়ে নিরাপত্তার হুমকির ঘটনা বিচার-স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংলাপ উভয় দিকেই প্রশ্ন তুলেছে।

দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া যেন ভয় ও প্রতিহিংসার হাত থেকে মুক্ত থাকে, তার জন্য জনসাধারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ জরুরি। তারা মনে করছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া বিচার শুধু আক্ষরিক আইনগত প্রক্রিয়া নয় — এটি রাজনৈতিক প্রমাণীকরণও হয়ে উঠতে পারে।

একজন সিনিয়র আইনপ্রণেতা বলেন, “যদি বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিরাপত্তা কেবল আনুষ্ঠানিক অর্থে হয়, তা হলে বিচার প্রক্রিয়া নিজের স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলবে। ভয়ভীতি সঙ্গে বিচার মানেই তা আর সুষ্ঠু বিচার নয়।”

প্রসিকিউশন অফিস বলেছে, গ্রেফতার শরীফের সঙ্গে বাকিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। তারা আশাবাদী যে, তদন্ত ও বিচারে আরও যুক্তিপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে যা বিচার প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও দৃঢ় ভিত্তি গড়বে।

এই গ্রেফতারির ঘটনা একটি গুরুতর সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে — বিচার প্রক্রিয়া যেন ভীতি ও সন্ত্রাসকারীদের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে নিজ গতিতে এগোতে পারে। পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং সংলাপের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে, যেখানে বিচার ও নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে বিরোধ না করে একে অপরকে সমর্থন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত