পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি জমি দখলের নতুন চেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৬ বার
পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি জমি দখলের নতুন চেষ্টা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

পশ্চিম তীরে রোমান আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সেবাস্তিয়ার একটি বড় অংশ দখল করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসরাইলি বেসামরিক প্রশাসন ইতিমধ্যেই সেবাস্তিয়ায় নতুন একটি ফাঁড়ি স্থাপন করেছে। এতে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি এলাকায় দখলের আরও সুযোগ পাচ্ছে।

নজরদারি সংস্থা পিস নাউ জানিয়েছে, ইসরাইল প্রায় ৪৫০ একর জমি দখল করার পরিকল্পনা করছে। ১২ নভেম্বর ইসরাইল সরকারের একটি আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন কোন জমি অধিগ্রহণ করা হবে এবং ফিলিস্তিনি মালিকদের কতদিনের মধ্যে আপত্তি জানাতে হবে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি মালিকদের মাত্র ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

সেবাস্তিয়া একটি ঐতিহাসিক শহর, যা প্রাচীন সামেরিয়া রাজ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে, কারণ স্থানটি জন ব্যাপটিস্টের সমাধিস্থল হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় দিক থেকে এই স্থানটি অত্যন্ত মূল্যবান।

ইসরাইল ২০২৩ সালে এই এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। পিস নাউ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই খননকাজ শুরু হয়েছে। ইসরাইল সরকার সেবাস্তিয়ার উন্নয়নে ৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। তবে এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অধিকার সংস্থা এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা উদ্বিগ্ন যে, নতুন ফাঁড়ি এবং বসতি স্থাপন ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জমি দখলের সুযোগ তৈরি করবে। এটি সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি জমি দখলের সর্বশেষ উদাহরণ।

সেবাস্তিয়ায় বসতি স্থাপন এবং জমি অধিগ্রহণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ওপর নির্মাণ ও খননকাজ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির উত্তরে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি বাজেয়াপ্ত করা হবে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের জন্য ১৪ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর সীমা অত্যন্ত কম বলে তারা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ফিলিস্তিনি অধিবাসীদের আইনি ও মানবিক অধিকার সীমিত হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সেবাস্তিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ জরুরি। তারা আশা করছেন, ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ওপর এই ধরনের চাপ কমাতে বিশ্বমহলের পর্যবেক্ষণ থাকবে।

এই পদক্ষেপ ইসরাইলের পশ্চিম তীরের নীতি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি জমি দখলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ওপর এ ধরনের আধিপত্য স্থাপন ভবিষ্যতের সংঘাত বৃদ্ধি করতে পারে।

পিস নাউ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে, তারা সেবাস্তিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিহার্য।

ইসরাইলের এই পদক্ষেপের কারণে ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ফাঁড়ি স্থাপন এবং জমি অধিগ্রহণ শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাও বাড়াবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘটনা ক্রমবর্ধমান। সেবাস্তিয়ায় নতুন ফাঁড়ি এবং জমি দখলের এই ঘটনা সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হিসেবে নজরে এসেছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত