প্রকাশ: ০৮ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার মালিবাগ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এক নারীর সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা সামনে এসেছে। মো. শোয়াইব (৪১) নামে এক ব্যক্তি শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে ওই নারী থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে শোয়াইব ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হয়। এরপর ইমো অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে তাদের। কথোপকথনের এক পর্যায়ে শোয়াইব ভিডিও কলের সময় ওই নারীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত স্ক্রিন রেকর্ড করে। পরবর্তীতে এই ভিডিও ও ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেখিয়ে নারীর কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় শুরু করে।
ব্ল্যাকমেইলের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পাশাপাশি মোট আট লাখ টাকা আদায় করেন শোয়াইব। তবে যখন ওই নারী আরও অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন অভিযুক্ত ইমো অ্যাপে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী রামপুরা থানায় একটি মামলা করেন।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ওই এলাকার একটি অভিযানে অভিযুক্ত শোয়াইবকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এরকম কেস সামনে আসার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্য ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত সংরক্ষণ এবং তা ব্যবহারে অপরাধীরা কতটা অবাধ হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে এই ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজন আইন প্রণয়ন ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার উন্নয়ন। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকা ছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।
এ বিষয়ে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর সম্পূর্ণ দিকগুলো উন্মোচন করতে চাইছি। সমাজে এই ধরনের অপরাধ রোধে আমাদের সাইবার সেন্টার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই অপরিহার্য, যাতে কেউ এই ধরনের কুপ্রবৃত্তির শিকার না হয়। প্রাইভেসি রক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়ম-কানুন ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা এবং জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং সিআইডি আশা করছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে শোয়াইবসহ অপর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।