ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের ঢাকায় রাষ্ট্রীয় সফর সমাপ্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের ঢাকায় রাষ্ট্রীয় সফর সমাপ্ত

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে সোমবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এই সফর ছিল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তা ও অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গার্ড অব অনার প্রদানসহ আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী তাকে বরণ করা হয়।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন স্তরে সম্পর্কের গভীরতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরের প্রথমদিনে শেরিং টোবগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে উভয় নেতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত সংযোগ উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও উভয় দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক চুক্তি, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের সময় উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে একে অপরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনও শেরিং টোবগের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে বিশেষভাবে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও বাণিজ্য সুবিধা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকার একটি হোটেলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও শেরিং টোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকগুলো দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরের সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের সফর কেবল কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিকেই নয়, মানবিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সফরের সময় তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেরিং টোবগের এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ সফর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভুটানের বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দৃঢ়তাকে প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এই সফরকে “দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত” হিসেবে অভিহিত করেন।

এভাবে, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের সম্পর্ককে বহুমুখী ও স্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলোতে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে উভয় দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত