ই-পারিবারিক আদালত: ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, ই-পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক মামলার প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি ও দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সময়ও বাঁচবে। সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ই-পারিবারিক আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগোতে না পারলে আমরা প্রায়ই পুরনো পদ্ধতির ভোগান্তিতে আটকে থাকি। প্রধান উপদেষ্টার সবচেয়ে বড় অফিসই হোয়াটসঅ্যাপ। তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা করেন। এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও বিচারপ্রক্রিয়ায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা উচিত।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মন্ত্রণালয়ে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ রিফর্ম ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। এ রিফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সরকারের জন্যও প্রযোজ্য থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশকে ভালোবেসে পরবর্তী যে রাজনৈতিক দল আসুক, তারা এই উদ্যোগগুলো বজায় রাখবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

পারিবারিক মামলার ক্ষেত্রে ই-পারিবারিক আদালত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে এই পরিষেবা ২০ জেলায় চালু হয়েছে, এবং ধাপে ধাপে ৬৪ জেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পারিবারিক মামলার জট প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “ই-পারিবারিক আদালত কেবল মামলার সময় কমাবে না, বরং মানুষকে আদালতে আসার ঝামেলা ও আর্থিক ব্যয়ও কমাবে। পাশাপাশি, দূরবর্তী এলাকা থেকেও মানুষ সহজেই আবেদন করতে পারবে। এটি শুধু সুবিধা নয়, একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তাও বৃদ্ধি করবে।”

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার ফলে আদালতের প্রতিটি পর্যায়ে তথ্য নথিভুক্ত করা সহজ হবে। মামলা সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে আপলোড করা যাবে, ফলে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ কমে যাবে। হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো সম্ভব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচারক, আইনজীবী ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতরা ই-পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে, ২০ জেলায় প্রাথমিকভাবে এই সেবা চালু হলেও আগামী সময়ে প্রতিটি জেলায় এটি সম্প্রসারণের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।

ড. আসিফ নজরুলের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতি শুধু ভোগান্তি কমাবে না, বরং নারী, শিশু ও বয়স্কদের মতো দুর্বলদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করবে। এভাবে সবাই সহজেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।

এই নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাখছে। ই-পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা গেলে সমাজে আইনশৃঙ্খলা ও মানুষের আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত