প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের হরাত আল-শাকা এলাকায় শনিবার সকাল থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সৌদি জিওলজিক্যাল সার্ভে (এসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.৪। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি সীমানার নীচে থাকা ভূপৃষ্ঠের স্বাভাবিক চাপজনিত কম্পনের কারণে হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনগণ আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এসজিএস-এর বরাত দিয়ে সৌদি গেজেট জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মদিনা অঞ্চলের আল-আইস এবং তাবুক অঞ্চলের উমলুজ গভর্নরেটের মধ্যবর্তী হরাত আল-শাকা থেকে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এই অঞ্চলটি সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয় লাভাক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পটির অনুভূতি স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মূলত ভোর ও সকালকালীন সময়ে কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রথমে কম্পন খুব ছোট এবং হালকা মনে হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা কিছুটা দৃঢ়তর হয়ে ওঠে। কিছু মানুষ জানাচ্ছেন, ঘরবাড়িতে ঝুলে থাকা বস্তুর দোলন এবং জানালার কাঁচে ছোট কম্পন লক্ষ্য করা গেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো মানুষ আহত হয়নি এবং বাড়িঘরেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই জনগণকে সতর্ক করেছে এবং ক্ষুদ্র ক্ষতি ও পরিদর্শনের জন্য স্থানীয় টিম মোতায়েন করেছে।
একই সময় ইরাকেও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.০৯। ইরাকের উত্তরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ডের জন্য মাটির নিচে কম্পন অনুভূত হয়েছে। যদিও এই ভূমিকম্পের কোনো প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূমিকম্পের ঘটনা সময়কালীন হলেও সাধারণত ধ্বংসাত্মক প্রভাব কম থাকে। সৌদি আরবের হরাত আল-শাকা অঞ্চলে যে মৃদু কম্পনটি হয়েছে তা স্থানীয় আগ্নেয় লাভাক্ষেত্রের স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক কার্যক্রমের অংশ। ভূ-তত্ত্ববিদরা উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চল ভূমি সচরাচর আগ্নেয় শিলা ও লাভা দ্বারা গঠিত হওয়ায় মাঝেমধ্যে ছোট কম্পন অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। হরাত আল-শাকা অঞ্চলের গভর্নর অফিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের কোনো ধরনের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া সৌদি সিসমিক মনিটরিং নেটওয়ার্কের সদস্যরা রাতভর সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শনিবারের কম্পন বেশ হালকা ও সংক্ষিপ্ত সময়ের হলেও সবাই আতঙ্কিত হয়েছে। হরাত আল-শাকার এক ব্যবসায়ী জানান, “ভোরের দিকে মাটির নিচ থেকে হালকা কম্পন আসতে থাকায় প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। কিছু সেকেন্ড পরপর ঘরবাড়ি হেলানো অনুভূত হয়।” তিনি আরও বলেন, তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয়রা মৃদু কম্পন সম্পর্কিত তথ্য ভাগাভাগি করেছেন। অনেকেই ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট ঝুলন্ত জিনিসপত্র দোল খাচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এসব ভিডিও যাচাই করছে এবং ভুয়া বা অতিরঞ্জিত তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদিও ৩.৪ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয় না, তবে এটি আঞ্চলিক ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই স্থানীয়রা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা পাচ্ছেন।
সৌদি আরবের এই অঞ্চলে সময় সময় ভূমিকম্প ঘটতে থাকে। বিশেষ করে আগ্নেয় শিলা এবং লাভাক্ষেত্রের সংলগ্ন এলাকায় ছোট কম্পন প্রায়ই অনুভূত হয়। সিসমিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণ সতর্ক থাকলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
অবশেষে, হরাত আল-শাকা ও তার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রশাসন সচেতন অবস্থায় রয়েছে। তারা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। সৌদি আরবের জাতীয় সিসমিক মনিটরিং নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা কম হওয়ায় মানুষের জীবন বা সম্পত্তির জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তবে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যদি ভবিষ্যতে শক্তিশালী কম্পন আসে তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেয়া যায়।