ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭০৫

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭০৫ জন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু এবং ৭০৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার (২৪ নভেম্বর) পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু, যা এডিস মশাবাহিত একটি সংক্রামক রোগ, প্রতি বছরের মতোই দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে এডিস মশার প্রাদুর্ভাবের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশাল বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ৬২ জন, চট্টগ্রামে ১১৬ জন, ঢাকা বিভাগের বাইরে ১৩৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭৭ জন ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ৩৪ জন, ময়মনসিংহে ৫৩ জন, রাজশাহীতে ৩৪ জন, রংপুরে ৫ জন এবং সিলেটে ১৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর এডিস মশা দ্বারা সংক্রামিত রোগে এখন পর্যন্ত ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শহর ও শহরতলির আবহাওয়া এবং জলাবদ্ধতা ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যারা শহরের নীচু এলাকায় বসবাস করছেন এবং যেখানে পানি জমে থাকে, তাদের জন্য রোগের ঝুঁকি বেশি।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯০,৯৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষরা বাইরের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকার কারণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি, কিন্তু নারীরাও মোটামুটি সমান ঝুঁকিতে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং সরকারি হাসপাতালগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা রোগীদের বাড়িতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জল পান, এবং মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে ডেঙ্গু প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা এবং মনিটরিংয়ে সম্পূর্ণ নিয়োজিত আছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। যেসব এলাকায় জল জমে থাকে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া পরিবারগুলোকে ঘরে মশারি ব্যবহার, মশার ফogging এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুধু স্বাস্থ্যসেবার উপর চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে। স্কুল, অফিস এবং বাজারগুলোতে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শহরবাসীকে সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো ধরনের জ্বর, পেটের ব্যথা, মাথাব্যথা বা শরীরের দুর্বলতা দেখা দিলে তা অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং জনগণকে সতর্ক রাখে। তারা উল্লেখ করেছেন, এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড় দেয়, তাই সকাল এবং বিকেলের সময় মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি জমে না রাখা, এবং শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে কিছু রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেও বেশির ভাগ রোগী দ্রুত সাড়া দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি হলে এবং চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যু এবং জটিলতা কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সচেতন হতে হবে। ঘরে-ঘরে পরিচ্ছন্নতা, অপ্রয়োজনীয় পানি জমে রাখার জায়গা না থাকা এবং মশার লার্ভা নির্মূল করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র সরকার নয়, পরিবার ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও বৃদ্ধরা ঝুঁকিতে আছেন। তাই, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো রোগ প্রতিরোধে সচেষ্ট রয়েছে। তারা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানে বিশেষ নজর দিচ্ছেন।

সংক্ষেপে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু এবং ৭০৫ জন ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৬ জনের মৃত্যু এবং ৯০,৯৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি জমা না রাখা এবং মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া এখন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত