কুয়ালালামপুরে সাঁড়াশি অভিযানে ১২৪ অবৈধ অভিবাসী আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৬ বার
কুয়ালালামপুরে সাঁড়াশি অভিযানে ১২৪ অবৈধ অভিবাসী আটক

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সাঁড়াশি অভিযানে ১২৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে স্থানীয় অভিবাসন বিভাগ। অভিযানটি চৌকিট এলাকার পাইকারি শপিং মল ‘জিএম প্লাজা’ এবং ‘হাজী তাইব হোলসেল সেন্টার’-এ পরিচালিত হয়। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন।

কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সওপি ওয়ান ইউসুফ জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কুয়ালালামপুরের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশন (এসএসএম) এর কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ওয়ান মোহাম্মদ সওপি বলেন, অভিযানে মোট ২০৫ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ ১২৪ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী। তিনি আরও জানান, অভিযান চলাকালীন স্থানীয় নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগ, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা, বিদেশি কর্মীর পাসের অপব্যবহার এবং অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি সবই অভিযান চালানোর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

অভিযান শেষে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ও ভ্রমণ পাসের অভাব এবং অতিরিক্ত সময় অবস্থান করার দায়ে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের ধারা ৬(১)(সি) এবং ১৫(১)(সি) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযান চলাকালীন ডিবিকেএল লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা ও বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য ছয়টি ভিন্ন অপরাধের জরিমানা আরোপ করেছে এবং একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। কেপিডিএন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূল্য ট্যাগিং সংক্রান্ত সাতটি অপরাধের জন্য মোট সাড়ে ছয় হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছে। আরও তথ্য অনুযায়ী তারা ১১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র পরীক্ষা করে ২৫টি অপরাধ নথিভুক্ত করেছে।

অভিযানটি স্থানীয়দের জন্য নিরাপত্তা এবং ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। ওয়ান মোহাম্মদ সওপি বলেন, এই অভিযান প্রমাণ করে যে কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা যৌথভাবে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, শহরের পাইকারি ও বাণিজ্যিক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ নথিপত্র থাকা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে স্থানীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

মালয়েশিয়ায় বৈধ নথিপত্রহীন অবস্থায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা নিয়মিত বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিবাসন বিভাগ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ নথিপত্র না থাকা, শ্রমিকদের পাস অপব্যবহার এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা দেশে ও শহরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সূত্রপাত ঘটায়। তাই কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের মতো সংস্থাগুলোর নিয়মিত অভিযান এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। বৈধ কাগজপত্র এবং ভ্রমণ অনুমতি থাকা না থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এই ধরনের অভিযান মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ আইন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে সহায়ক।

এই অভিযান স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, গ্রাহক সেবা এবং নিয়ন্ত্রিত বাজার পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ অভিবাসীদের সুরক্ষা ও অবৈধ কার্যক্রম কমাতে নিয়মিত নজরদারি এবং যৌথ অভিযান প্রয়োজনীয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এ অভিযান প্রমাণ করে, কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ কেবল নিয়ম প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় সমাজের কল্যাণ এবং বৈধ ব্যবসায়িক পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আটককৃত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়াগুলো আইনানুগ এবং মানবিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত