প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) চূড়ান্ত করেছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় সোমবার অনুষ্ঠিত লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলাওয়ারি এসপিদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। শিগগিরই তাদের বিভিন্ন জেলায় পদায়ন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর যৌথভাবে যুক্ত ছিল এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
লটারির সময় ভারপ্রাপ্ত আইজিপি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হিসেবেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেলায় এসপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অতীতে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ফিট লিস্ট প্রস্তুত করা হয়। এই তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা কমিটির হাতে দেওয়া হয়। নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা এবং তত্ত্বাবধানে যে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলাওয়ারি পদায়ন চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে ৬ জেলায় নতুন এসপি নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে তাদেরও লটারি প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলির দাবি জানিয়েছিল। এই দাবিকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতিমালার অংশ হিসেবে লটারির মাধ্যমে এসপি নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে।
গত শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই ঘণ্টার একটি বৈঠকে নির্বাচনকালীন পুলিশের নিয়োগ ও বদলিসংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের পদায়ন ও দায়িত্ববণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়মের সম্ভাবনা হ্রাস করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেলাওয়ারি লটারির মাধ্যমে এসপি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া নির্বাচনকালীন স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এটি পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত এসব এসপি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। তাদের মূল লক্ষ্য হবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন পরিচালনার সময় সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা।
এদিকে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী পরিবেশে নিয়োজিত এসপি, ডিএমপি ও অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখা হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত এসপিদের যথাযথ নির্দেশনা ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা পুলিশ সুপারকে নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, আইন শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সার্বিকভাবে, লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার এসপি নির্বাচনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভোটারদের প্রতি সরকারি দায়িত্ব, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহমত প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ভবিষ্যতে পুলিশ ও প্রশাসন পর্যায়ক্রমে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
নির্বাচনকালীন এই পদায়ন সাধারণ জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার একটি বার্তা পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভোটারদের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।