প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। জাতীয় বেতন কমিশন গত সোমবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকের পর কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সাংবাদিকদের জানান, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে, তবে সব সচিব উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও জানিয়েছেন, অনুপস্থিত সচিবদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত সুপারিশ কখন হতে পারে, তা জানতে চাইলে জাকির আহমেদ খান বলেন, আলোচনা শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে পারা যাবে। এর ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রস্তুতি আরও দৃঢ় হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন এই বছরের ২৭ জুলাই গঠন করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য সময়োপযোগী ও যথোপযুক্ত বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা। কমিশন গঠনের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য মতামত সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গত ১ থেকে ১৫ অক্টোবর নাগরিক, সরকারি কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠান, এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতির মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে প্রশ্নমালার মাধ্যমে মতামত সংগ্রহ করা হয়।
কমিশন ইতিমধ্যে বেতন কাঠামো সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর কমিশন তা যাচাই করে সুপারিশ জমা দেবে। সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে, যা পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতারা সুপারিশ জমা দেয়ার জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই সময়ের মধ্যে সুপারিশ না আসে, তবে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি রয়েছে। এছাড়া, ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে সরকারকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেওয়া হবে।
সর্বশেষ বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, সচিবদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামোর সীমাবদ্ধতা, সময়োপযোগী সমন্বয়, এবং সরকারি খাতে বেতন কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুসংহত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এটি নিশ্চিত করছে যে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বচ্ছ ও ন্যায্য বেতন কাঠামো পাবেন।
কর্মচারী নেতারা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা সুপারিশ জমা না হলে কঠোর আন্দোলনের পথে যাবেন এবং দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বৃহৎ মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। এটি সরকারের প্রতি জনগণের ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বেতন কাঠামোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য চাপ তৈরি করবে।
সার্বিকভাবে, নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের এই উদ্যোগ সরকারী কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সরকারি খাতের কর্মসংস্থানের মানোন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে। দেশের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।