৪৬তম বিসিএস: পরীক্ষার আগে সতর্কতার সর্বোচ্চ বার্তা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০ বার
৪৬তম বিসিএস: পরীক্ষার আগে সতর্কতার সর্বোচ্চ বার্তা

৪৬তম বিসিএস: পরীক্ষার আগে সতর্কতার সর্বোচ্চ বার্তা

প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চলতি বছরের ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে, যা এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি সতর্কতামূলক বলা চলে। লিখিত পরীক্ষার আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৪ জুলাই থেকে এবং চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট, শেষ হবে ২১ আগস্ট। এই দীর্ঘ পরীক্ষাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পিএসসি নিয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পিএসসির সদ্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলে বই, নোট, ঘড়ি, মুঠোফোন, ক্যালকুলেটর কিংবা যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি গয়না বা ব্রেসলেটের মতো অলংকারও বহন করা যাবে না। এসব সামগ্রী সঙ্গে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থিতা বাতিল হবে এবং অভিযুক্ত প্রার্থী ভবিষ্যতে পিএসসির আর কোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রবেশপত্র যাচাই ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এবারের পরীক্ষায় নিরাপত্তা আরও কঠোর করতে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর মুঠোফোনে পরীক্ষার দিনগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত এসএমএস পাঠানো হবে। এতে বারবার সতর্ক করা হবে যেন কোনোভাবেই নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে আনা না হয়। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, পরীক্ষার হলে কানের ওপর কোনো আবরণ রাখা যাবে না। হিয়ারিং এইড ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শপত্র থাকতে হবে এবং তা কমিশনের পূর্ব অনুমোদিত হতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রতারণা বা অসদুপায় যাতে কোনোভাবে ঠাঁই না পায়।

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল ঘিরেও এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে পিএসসি। গত বছরের ৯ মে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর প্রথমে ১০ হাজার ৬৩৮ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন। পরবর্তীতে সম্ভাব্য বৈষম্য দূর করতে আরও সমসংখ্যক প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়, ফলে লিখিত পরীক্ষার জন্য এবার নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯৭ জনে।

৪৬তম বিসিএসে মোট ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ থাকছে স্বাস্থ্য ক্যাডারে—সহকারী সার্জনের জন্য ১ হাজার ৬৮২টি ও সহকারী ডেন্টাল সার্জনের জন্য ১৬টি পদ রাখা হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারেও বড় নিয়োগের সুযোগ থাকছে, যেখানে বিসিএস শিক্ষা শাখায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৫২০ জনকে নেওয়া হবে।

বছরের পর বছর ধরে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিসিএস পরীক্ষার গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি এবার সুষ্ঠু ও অনিয়মমুক্ত পরীক্ষা নিতে কমিশনও যে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে তা এই নির্দেশনায় স্পষ্ট। যাঁরা স্বপ্ন দেখছেন বিসিএসে পা রাখার, তাঁদের জন্য এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়—এটি সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব প্রমাণ দেওয়ারও মঞ্চ। কাজেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলাই হতে পারে একজন প্রার্থীর সবচেয়ে বড় সচেতনতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত