ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচনের তফশিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে। এর মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন, জোট, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করবে তফশিল ঘোষণার পর।

রাজধানীর নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দিনব্যাপী সংলাপের উদ্বোধন করেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। সংলাপের শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তালিকা তফশিল ঘোষণার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এই সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও অবাধ হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটাতে গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্যে নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে ইসির আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সংলাপে উপস্থিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও পর্যবেক্ষকদের গুরুত্ব অনুধাবন করে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যারা যুক্ত হবেন, তাদের অবশ্যই অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ হতে হবে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কেউ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করবে ইসি। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে।

সানাউল্লাহ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার উপস্থিতির হার আগের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কঠোর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও জনগণের মধ্যে নির্বাচন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পর্যবেক্ষকদের কাজের পরিধি নির্ধারণ করে কমিশনার জানান, নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরের দিন—মোট তিন দিন পর্যবেক্ষকরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এতে নির্বাচনী পরিবেশ মনিটরিং, ভোট গ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া—সবই পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এ তিন দিনের পর্যবেক্ষণই নির্বাচনের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবার ভুয়া বা স্বেচ্ছাচারী পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দিতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্রে কিউআর কোড (QR Code) সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সহজেই যাচাই করা যাবে পর্যবেক্ষক সত্যিকারের অনুমোদিত ব্যক্তি কিনা। অতীতে যে সব ক্ষেত্রে ‘ভুয়া পর্যবেক্ষক’ পরিচয়ে অনেকে নির্বাচনী এলাকা প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে—এসব ঘটনা রোধ করতেই এ উদ্যোগ। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষকের নাম, সংস্থা, অনুমোদনের মেয়াদ ও দায়িত্বের এলাকা শনাক্ত করা যাবে।

সংলাপের উপস্থিত পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তির সুবিধা, নির্বাচনী পরিবেশ মূল্যায়নের প্রক্রিয়া ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচন কমিশন তাদের সকল প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করে এবং নিশ্চিত করে যে পর্যবেক্ষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা, চলাচল ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে বাধাহীনতা নিশ্চিত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তফশিলের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও মাঠে তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করবে। বিশেষ করে প্রার্থীদের মনোনয়ন, নির্বাচনী কৌশল এবং মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে তফশিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী উত্তাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী আলোচনা এখন আরও গতি পাচ্ছে। জনগণও অপেক্ষা করছে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য। ইসি থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য বলছে, আগামী নির্বাচন হবে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ, এবং জালিয়াতির সুযোগহীন। সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ যাতে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফশিল ঘোষণার মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক সংস্থা, ভোটার ও সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে—কবে ঘোষণা হবে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনসূচি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত