প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদফতর দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুবনারীদের জন্য একটি বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এই প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষিত যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষিত যুবক ও যুবনারা আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীরা তিন মাসব্যাপী, মোট ৬০০ ঘণ্টার কোর্সে অংশগ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণ ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে, যা ঢাকার মিরপুর রোডে অবস্থিত।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত হিসেবে অন্তত এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সপ্তাহে ছয় দিন, প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে, মোট ৭৫টি ক্লাসে ৬০০ ঘণ্টা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ অফলাইন, যা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ চলাকালীন দৈনিক ২০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং বিকেলের নাশতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সরকারি স্বীকৃত সনদপত্র পাবেন। অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রকার ফি নেওয়া হবে না, ফলে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ।
অনলাইনে আবেদন করার শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশিক্ষণার্থীদের অনলাইনে আবেদন করার সময় নির্ধারিত সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
এই প্রকল্প দেশের যুবসমাজকে প্রযুক্তি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ দিচ্ছে, যা ফ্রিল্যান্সিং জগতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করতে সক্ষম হবেন, যার মাধ্যমে তারা আয়ের উৎস তৈরি করতে পারবেন। বিশেষ করে করোনার পর ডিজিটাল অর্থনীতি এবং অনলাইন ব্যবসার বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেশের যুবকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মসূচিটি শুধু শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করছে না, বরং দেশের যুব সমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করছে। প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু দক্ষতা অর্জনই নয়, বরং একটি সমৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথও খুঁজে পাবেন। সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের আন্তর্জাতিক মার্কেটে প্রতিযোগিতার জন্যও প্রস্তুত করছে। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
সার্বিকভাবে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতরের এই উদ্যোগ দেশের যুবসমাজকে স্বনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ৪৮ জেলায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষিত যুবদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।