প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন যে, সিন্ধু ভূমি ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত হতে পারে। এই মন্তব্য পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মুরাদ আলী শাহ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে বলেন, “সিন্ধু পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনাথ সিং ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রতি নজর দেওয়ার পরিবর্তে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়। মুরাদ ব্যাখ্যা করেন, সিন্ধু ১৯৩৬ সালে বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে পৃথক হয়ে যেত এবং তখন থেকেই সিন্ধুর জনগণ তাদের স্বায়ত্তশাসন, মর্যাদা এবং রাজনৈতিক পরিচয় অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য গত রোববার নয়াদিল্লিতে সিন্ধি সমাজের এক অনুষ্ঠানে প্রতিপাদিত হয়। তিনি বলেন, সিন্ধু ভূমি এখন ভারতের অংশ না হলেও সভ্যতার দিক থেকে এই অঞ্চল ভারতের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। রাজনাথ আরও উল্লেখ করেন, লালকৃষ্ণ আদবানি তার একটি বইতে লিখেছেন যে, সিন্ধি হিন্দুরা এখনও ভারত থেকে সিন্ধুর বিচ্ছিন্নতা মেনে নেয়নি। তিনি বলেন, “সিন্ধুর অনেক মুসলমানও বিশ্বাস করতেন যে সিন্ধুর জল মক্কার আব-এ-জমজমের চেয়ে কম পবিত্র নয়।”
সিন্ধু প্রদেশ পাকিস্তানের গঠন ও ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনাথের মন্তব্যকে অবৈধ ও প্ররোচনামূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর সিন্ধু প্রদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সেখানে বসবাসকারী সিন্ধি হিন্দুরা ভারতে চলে আসেন। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ প্রশাসন এই পরিস্থিতিতে ভারতের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফরও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্য ও প্রদেশের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ‘দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের দিকে নজর দিন।’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সবসময় তাদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য দৃঢ় অবস্থান নেবে এবং কোনো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা কিংবা প্রতিবেশী দেশের বক্তব্যে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। সীমান্তবর্তী রাজ্য ও প্রদেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে মনোযোগ দিয়ে দেখছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ ধরনের মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক উত্তেজনা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে সশস্ত্র এবং সামাজিক উত্তেজনার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
মুরাদ আলী শাহের মন্তব্যে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি ভারতের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ইতিহাস ও বাস্তবতার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত এবং দুটি দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য কূটনৈতিক দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। পাকিস্তান সরকার এবং সিন্ধু প্রদেশ প্রশাসন এ ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কূটনৈতিক চাপ ও মন্তব্য মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে প্রতীয়মান।