প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনাটি কোনো নাশকতার ফল নয়। এটি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে। তদন্তে কোনরকম স্যাবোটাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিস্তারিত বলেন, গত ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উপস্থাপন করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুনের শুরুতে কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার সার্ভিসের স্তূপে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ঘটেছিল।
শফিকুল আলম বলেন, “তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে যে আগুন কোনো নাশকতার অংশ ছিল না। এটি ছিল একটি দূর্ঘটনা, যার প্রাথমিক কারণ বৈদ্যুতিক ত্রুটি।” তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে যেসব অনুমান করা হয়েছিল—যেমন নাশকতা বা স্যাবোটাজ—সেগুলো উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ওই আগুনে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে কার্গো ভিলেজের অনেক অংশ পুড়ে যায়। এতে আমদানি করা বিভিন্ন মালপত্রের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে রফতানি অবকাঠামো আগুন থেকে রক্ষা পায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনের ফলে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এই অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও তা দ্রুত স্বাভাবিক হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের প্রাথমিক সময়ে নিরাপত্তা ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়েছিল। তবে বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি ও কিছু পুরনো সরঞ্জামের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রেস সচিব জানান, বিমানবন্দরের প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শফিকুল আলম বলেন, “বিমানবন্দরকে নিরাপদ ও কার্যকর রাখার জন্য আমাদের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগুনের ঘটনায় যে শিখন রয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাবধানতা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা যাতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সেই জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পুনরুদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত করেছে।
এই ঘটনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নতুনভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। আগুনের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের মান নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগুনের সময় তৎপরতার মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে কার্গো ব্যবস্থাপনায় কিছু উন্নয়ন প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা চাই, জনগণ যেন আতঙ্কিত না হন। আগুনের ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা এবং তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা হয়েছে। বিমানবন্দর বর্তমানে নিরাপদ ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।”
এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আগুনকে নাশকতা হিসেবে উল্লেখ করার পর প্রশাসন দ্রুত স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। শফিকুল আলম নিশ্চিত করেছেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা বা আতঙ্কিত করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগামীতেও নিরাপত্তা ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও কোটি কোটি টাকার মালপত্র এখানে সংরক্ষণ ও পরিবহন হয়। তাই এর নিরাপত্তা ও কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর। এই ঘটনায় পাওয়া শিক্ষণ অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে সকল ধরনের ত্রুটি সংশোধন করতে প্রস্তুত।