চীনের মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
চীনের মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ানোর জন্য রাজি হয়েছেন। এই ঘোষণা আসে দুই দেশের প্রধাননেতার মধ্যে ফোনালাপের একদিন পর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতার আলোচনা বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাবিত বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে গড়িয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলেছি, আমি চাই আপনি আরো বেশি পণ্য কিনুন। তিনি তা করতে রাজি হয়েছেন।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য মার্কিন কৃষক, শিল্প ও বাণিজ্যক্ষেত্রে আশা ও আশ্বস্তি জাগিয়েছে। চীনের বাজারে মার্কিন পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চীন এই বছর মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে চলতি সময় পর্যন্ত চীন প্রায় দুই মিলিয়ন মেট্রিক টন সয়াবিনের অর্ডার দিয়েছে, যা এ প্রতিশ্রুতির একটি প্রাথমিক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রেজারি মন্ত্রণালয় মনে করিয়ে দিয়েছে, বাণিজ্যিক দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে সহায়ক হবে।

চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ফোনালাপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন, “চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসময় ফ্যাসিবাদ ও সামরিকবাদের বিরুদ্ধে পাশাপাশি লড়াই করেছে। এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল রক্ষার জন্য তাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।” শি জিনপিং-এর এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং যৌথ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের গুরুত্বকে ফুটিয়ে তুলেছে।

ফোনালাপের সময় শি জিনপিং আরও বলেন, “চীনে তাইওয়ানের প্রত্যাবর্তন যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।” বিষয়টি সামরিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে দু’দেশের মধ্যে সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এ আলোচনার মাধ্যমে চীন স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত প্রভাবশালী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি শুধুমাত্র কৃষি পণ্যের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রযুক্তি, শিল্প ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের এই প্রতিশ্রুতি মার্কিন কৃষকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। করোনাভাইরাস মহামারির পর বিশ্ববাজারে কৃষি পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। এই সময়ে চীনের বড় অঙ্কের আমদানির প্রতিশ্রুতি মার্কিন কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও, বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আনতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চীনের বাণিজ্য নীতি প্রায়শই কূটনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে জড়িত থাকে। তাইওয়ান এবং অন্যান্য সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও বাণিজ্যিক বিষয়কে সামনে এনে দুই দেশ কৌশলগত সমঝোতার পথ খুঁজছে। ট্রাম্প ও শি জিনপিং-এর ফোনালাপের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিশ্ব দেখেছে।

সদ্যপ্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, চীনের প্রেসিডেন্ট মার্কিন পণ্যের ক্রমবর্ধমান আমদানি নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে, মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই অঙ্গীকার শুধু পণ্যের লেনদেনের বিষয় নয়। এটি একটি প্রতীকী বার্তা যে দুই বৃহৎ শক্তি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যে সংলাপ বজায় রাখতে সক্ষম। এটি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ চেইনকে প্রভাবিত করতে পারে।

ফলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন দিগন্তের দিকে এগোতে শুরু করেছে। এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী মাসগুলোতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংক্ষেপে, চীনের মার্কিন পণ্য আমদানের প্রতিশ্রুতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যকে সমন্বয় করার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করা সম্ভব। এটি মার্কিন কৃষি খাতের জন্য নতুন আশা এবং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতার বার্তা বহন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত