তুর্কি বিজ্ঞানী ফুরকান দোলেক মুক্তি পেলেন জামিনে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
তুর্কি বিজ্ঞানী ফুরকান

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে তুর্কি বিজ্ঞানী ড. ফুরকান দোলেক মঙ্গলবার ৫০,০০০ ডলার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর মুক্তি নিয়ে তাঁর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও তুর্কিশ আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি (টিএএসসি) সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। টিএক্সাসের এল পাসোতে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দোলেক শিকাগোতে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

টিএএসসি এবং দোলেকের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবীভাবে মামলাটি পর্যবেক্ষণকারী আইনজীবী মাইকেল গোখান কিরান বলেন, “তুর্কি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ড. ফুরকান দোলেকের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া এই দায়িত্বেরই স্বাভাবিক ফল।” টিএএসসির উদ্যোগে তুর্কি-আমেরিকান কমিউনিটি দ্রুত জামিনের অর্থ জোগাড় করে এবং দোলেক আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন শিকাগোতে থাকবেন।

ড. ফুরকান দোলেক ভার্জিনিয়া টেক এবং সুইজারল্যান্ডের সিইআরএন-এ পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর কাছে অবস্থিত শক্তি মন্ত্রণালয়ের কণা–পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার ফার্মিল্যাব-এ কাজ শুরু করেন। ২০২৪ সালের মার্চে তিনি ফার্মিল্যাবের কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য বিকিরণ ঝুঁকি, অনিরাপদ পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানগত অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন।

এই অভিযোগগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশের পর এপ্রিল মাসে তাকে ফার্মিল্যাব থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার গবেষণা ভিসা বাতিল করা হয়। দোলেক লিংকডইনে প্রকাশিত নথিতে জানান, তিনি “শোষিত গবেষকদের অনিরাপদ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য করা, দুর্বলদের অবহেলা, অনিয়ম আড়াল করা, প্রতিশোধমূলক আচরণ এবং জালিয়াতি” প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক সরকারি হুইসেলব্লোয়ার চ্যানেলে রিপোর্ট করেছি। সুরক্ষা পাওয়ার বদলে শাস্তি পেয়েছি—মিথ্যা অভিযোগ, বরখাস্ত এবং প্রতিষ্ঠানের নীরবতা।”

ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে দোলেক মামলা করেন, কিন্তু আইনি লড়াই ব্যর্থ হওয়ায় কয়েক মাস ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ নথি ছাড়াই বসবাস করেন। চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে তিনি প্রতিবাদ হিসেবে কানাডার দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। এই পদযাত্রা তুর্কি–আমেরিকান সম্প্রদায় এবং একাডেমিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ২৭ আগস্ট তার শেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে নিউইয়র্কে তুর্কি কনস্যুলেটের অনুসন্ধান ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তদারকিতে ৪ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত হয় যে দোলেককে নিউইয়র্কের বাফেলো ফেডারেল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক রাখা হয়েছে।

দোলেকের জামিনে মুক্তি তাকে আবারও আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। তিনি শিকাগোতে আইনি কার্যক্রম চলাকালীন অবস্থান করবেন এবং ভবিষ্যতে আদালতের শুনানিতে অংশ নেবেন। এই ঘটনা গবেষক ও হুইসেলব্লোয়ারদের অধিকার সুরক্ষায় এবং প্রতিষ্ঠানের দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ড. ফুরকান দোলেকের মুক্তি তুর্কি–আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি এবং সমর্থনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনার মাধ্যমে গবেষকদের নিরাপত্তা এবং প্রকাশ্য অভিযোগ করার অধিকার রক্ষা পাওয়ার গুরুত্ব আন্তর্জাতিকভাবে ফুটে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত