ঝালকাঠি-১: বিএনপি-জোট বনাম জামায়াতের উত্তাপ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
ঝালকাঠি-১: বিএনপি-জোট বনাম জামায়াতের উত্তাপ

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ঝালকাঠি এলাকায় ভোটপ্রচারের উত্তাপ তুঙ্গে। রাজাপুর-কাঁঠালিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-১ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নড়েচড়ে বসার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এই আসনে সমসাময়িকভাবে নির্বাচনি তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বিএনপি এখনও এ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এ অবস্থায় দলের একাধিক নেতা মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও বিএনপির সমর্থনে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থন দিয়েছে ডা. ফয়জুল হককে, যিনি ইতোমধ্যেই নিজের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঝালকাঠি-১ আসনটি এবারের নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যস্থ অবস্থান হিসেবে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই আসনটি সম্ভাব্য জোটের অংশ হিসেবে লেবার পার্টিকে দেওয়া হতে পারে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডা. ইরান ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে জাতীয় পার্টি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাছে হেরে যান। এবার পিরোজপুর-২ আসনের ভোটার ও নির্বাচনি এলাকার পরিধি বেড়ে যাওয়ায় তিনি পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়ন দাবী জানিয়েছেন।

ডা. ইরানের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় হলেও তার নিবাস রাজাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায়। সম্প্রতি তিনি নিজস্ব ভোট স্থান পরিবর্তন করে রাজাপুরে এনেছেন। ইতোমধ্যেই রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় তার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে। তিনি মনে করছেন, যদি বিএনপি জোটের মনোনয়ন পান, তবে জামায়াতের প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জয়ী হতে পারেন।

অপরদিকে ড. ফয়জুল হক প্রথমে নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে এখন তিনি জামায়াতের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি মনে করেন, যদি ইরান জোটের মনোনয়ন পান, তখনও তার জয় সম্ভাবনা দৃঢ়। ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন ফয়জুল হক।

নির্বাচনি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ ফয়জুল হক ও তার সমর্থকরা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশ চালাচ্ছেন। জেলা জামায়াত সূত্র জানায়, জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী আসার খবরে ফয়জুল হকের নির্বাচনি তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়াও তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়ভাবে একত্রিত করছেন।

ভোটারদের মনোভাবও এই উত্তাপের সঙ্গে যুক্ত। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, স্থানীয়ভাবে উভয় প্রার্থীর পরিচিতি ও সমর্থন ভিন্ন। আওড়াবুনিয়ার ভোটার নাসির উদ্দিন আকাশ জানিয়েছেন, এ এলাকায় আনারস প্রতীকের তেমন পরিচিতি নেই। অন্যদিকে সাতুরিয়া গ্রামের রাব্বি তালুকদার মনে করেন, বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় জোটের প্রার্থী দিলে জয় কঠিন হতে পারে। তবে অনেকেই মনে করেন, যদি বিএনপি নেতাকর্মীরা এককভাবে সমর্থন দেন, তাহলে ডা. ইরান শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এগিয়ে যেতে পারেন।

রাজাপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আজিজুল হক মনে করছেন, ২০১৮ সালে ইরানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, তাই মনোনয়ন দিলে সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। তবে ডা. ইরান নিজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মধ্যে অনেক গ্রুপিং রয়েছে। আশা করি, আমাকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে থাকবেন এবং আমরা দলকে বিজয়ী করতে পারব।”

এ ছাড়া, মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখনও আশা ছাড়েননি। তারা বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা-সমাবেশ করে নিজের পরিচিতি এবং সমর্থন বৃদ্ধি করছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নিউ ইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম ও গোলাম আজম সৈকত সম্প্রতি নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

রফিকুল ইসলাম জামাল জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছে, তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ চালাতে পারেন। হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা মনে করেন, দল তারেক রহমান যেটি সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই গ্রহণযোগ্য হবে। একেএম রেজাউল করিমও আশা প্রকাশ করেছেন, মনোনয়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর তিনি দলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় করবেন।

ঝালকাঠি-১ আসনের এই নির্বাচনি উত্তাপ শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এলাকার সাধারণ ভোটার, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও দলীয় কাঠামোর মধ্যে বিশাল উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি নির্বাচনের আগে দলের ভেতরও এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক চাপের সূচনা করেছে।

এ ধরনের উত্তাপ প্রমাণ করছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ঝালকাঠি-১ আসনে ভোটারের মনোভাব, দলীয় সমর্থন ও স্থানীয় পরিচিতি কেবল ফলাফলের নির্ধারক হতে পারে। যেকোনো সিদ্ধান্ত, চূড়ান্ত মনোনয়ন ও নির্বাচনি ফলাফল রাজনীতির এই অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে দীর্ঘমেয়াদিভাবে প্রভাবিত করবে।

শুধু দলের ভেতরের প্রার্থী নির্বাচন নয়, ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ, নেতা-কর্মীদের সমন্বয় এবং রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঝালকাঠি-১ আসনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্র ও জোটবদ্ধ শক্তির প্রভাবও পর্যালোচনা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত