পশ্চিম তীরে ইসরাইলের নতুন অভিযান, উত্তেজনা বেড়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন অভিযান শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ও ভয় আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দ্রুতই বিস্তৃত হয়। সেনারা বিভিন্ন শহরে প্রবেশ করে এবং অভিযানকে “বৃহৎ সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা” হিসেবে ঘোষণা করে। এ সময় আকাশে ড্রোন উড়তে থাকে, সাঁজোয়া যান শহরের প্রবেশপথগুলো দখলে নেয় এবং নাগরিকদের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছিল। তাই তারা এই অভিযান শুরু করেছে। প্রথমে আকাশ থেকে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। তারপর স্থল সেনারা এলাকায় ঢুকে সন্দেহভাজনদের ধরতে তল্লাশি শুরু করে। বাড়িঘর ঘেরাও করা হয় এবং বহু বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আটক করা হয়। সেনারা অভিযোগ করেছে, জেনিনের কাবাতিয়া এলাকায় অভিযানের সময় এক ব্যক্তি বিস্ফোরক ছোড়ে। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ইসরাইলি বাহিনী এটিকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি অভিযান থেকে আলাদা একটি নতুন অভিযান বলে উল্লেখ করেছে।

এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে পশ্চিম তীরের তুবাস গভর্নরেটে। এই অঞ্চলটি কৃষিপ্রধান। গভর্নর আহমেদ আল-আসাদ বলেছেন, এবার প্রথমবারের মতো পুরো গভর্নরেটজুড়ে একসঙ্গে অভিযান চলছে। তিনি জানিয়েছেন, তুবাস, তাম্মুন, তায়াসির শহর এবং আল-ফারা শরণার্থী শিবিরে সেনারা অভিযান চালিয়েছে। এসব এলাকায় বিস্তৃত তল্লাশি হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি চেকপোস্টে আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথে মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়েছে, যাতে কেউ বাইরে যেতে না পারে।

গভর্নরের দাবি, অভিযানটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো ছাড়া এই অভিযানের কোনও নিরাপত্তাগত প্রয়োজন ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। টহল গাড়ির শব্দে পুরো শহর আতঙ্কে ছিল। ড্রোন আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষকে আরও ভীত করে তোলে।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তারা অন্তত দশজন আহতকে চিকিৎসা服务 দিয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, তাদের মেডিকেল টিমকে তুবাস ও তাম্মুনে রোগী পরিবহনে বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে জরুরি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, এলাকায় কারফিউ জারি হয়েছে এবং অন্তত দুই ডজন পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। অনেক পরিবার রাতভর আতঙ্কে ছিল। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পেরেছে, তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ছোট শিশুদেরও নিরাপদ রাখতে সমস্যা হচ্ছিল।

হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এই অভিযানকে নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, ইসরাইল পশ্চিম তীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সংগঠনগুলো বলেছে, এটি ইসরাইলের পুরোনো দমননীতি। তারা মনে করে, গাজায় যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম তীরে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরের হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর স্থানীয়দের আশা ছিল পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে অভিযান, গুলিবর্ষণ এবং সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বহু সাধারণ নাগরিক রয়েছে। বিপরীতে ইসরাইল জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৪৪ জন নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছে।

পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষের জীবন তাই এখন প্রতিদিনই অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এই অভিযানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ, অভিযান যত বাড়ছে, তত বাড়ছে ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না আসে, তবে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং সহিংসতার মাত্রাও বাড়তে পারে।

শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষকরা জমিতে যেতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে ভয় পাচ্ছে। রাস্তায় সামান্য ভুল পদক্ষেপও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তুবাসের এক বাসিন্দা বলেছেন, প্রতিটি দরজার ওপারে এখন ভয় লুকিয়ে আছে। কেউ জানে না সেনারা কখন কোন বাড়িতে ঢুকে পড়বে। কেউ জানে না কখন আবার গুলি ছুটবে।

এভাবেই নতুন অভিযান পশ্চিম তীরের মানুষকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানেন না এই অভিযান কতদিন চলবে। তারা শুধু চান, সহিংসতা থেমে যাক এবং তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারুক।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত