প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে। এই নির্দেশনা বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) জারি করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া দেশের বাইরে বা বিদেশে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হলো। এ নির্দেশনা জারি করার পেছনে সরকারের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের সময় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি না হওয়া এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০২৩-এর ৪১ (২) (ঘ) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশজুড়ে কার্যরত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এই নির্দেশনা প্রেরণ করেছে। ব্যাংক আশা করছে, এটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মী ও ব্যবস্থাপনা স্তরের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই সময়কালীন পদক্ষেপ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা-সদস্যরা যদি এ সময় আন্তর্জাতিক সফর বা বিদেশ ভ্রমণ করেন, তবে তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রিয়াশীলতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে।
এদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পরিচালনা বিষয়ক দায়িত্ব পালনে এই ধরনের নির্দেশনার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। দেশজুড়ে ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হতে পারে, এবং কর্মকর্তারা নিজেদের দায়িত্বের প্রতি আরও সচেতন হবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের সময় দেশে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই এই নির্দেশনা কর্মকর্তাদের নজরদারি, দায়িত্ব ও পরিকল্পনামূলক কার্যক্রমের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপে মানবিক ও জনস্বার্থও অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেন ও পরিষেবার প্রভাব কমিয়ে আনতে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের স্থিরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু আইনগত নির্দেশনা নয়, বরং দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা, সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
নির্দেশনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যারা বৈধ কারণ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে যাবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছে, যাতে তারা দেশের আর্থিক দায়িত্ব ও আইন মেনে চলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কোনও ঝুঁকি বা ব্যাঘাত এড়াতে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই ধরনের নির্দেশনা শুধু নিয়ন্ত্রণমূলক নয়, এটি দেশের আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক কার্যক্রমে দৃঢ়তা যোগ করবে এবং নির্বাচনের সময় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সংকট এড়াতে সহায়ক হবে। এ ছাড়া এটি কর্মীদের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা প্রমাণ করছে যে, নির্বাচনের সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালন, নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা এবং দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বসহকারে কাজ করছেন। এটি সাধারণ জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নির্বাচনকালীন স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করা হলে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ আরও স্থিতিশীল থাকবে।