খাগড়াছড়ি সীমান্তে ৬ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি সীমান্তে চলতি মাসে এক বড় ধরনের বিজিবি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযান বিজিবির পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ–পূর্ব রিজিয়নের তিনটি জোনের আওতাধীন ১৩টি ব্যাটালিয়ন দ্বারা সম্পন্ন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী পানছড়ির লোগাং জোনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যটি জানিয়েছেন ৩ বিজিবি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, চট্টগ্রাম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ৫৪০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি ও পাহারার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান ও অবৈধ মালামাল জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিউল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্তে প্রতিদিন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তাই বিজিবি ক্রমাগত নজরদারি জোরদার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও শক্তভাবে চালানো হবে।”

চোরাচালান রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবি বিভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহার করে। সীমান্ত এলাকায় টহলদারি, চেকপোস্ট, নজরদারি ড্রোন ও স্থানীয় সহায়ক বাহিনী ব্যবহার করে বিজিবি প্রতিটি ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নজর রাখে। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা প্রদান ছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

চলতি মাসের অভিযানের মাধ্যমে জব্দ হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্য, তামাকজাত সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং কিছু দামী সামগ্রী। বিজিবি জানিয়েছে, এসব জব্দকৃত পণ্যের বাজার মূল্য ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি। এটি সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির দৃঢ় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিজিবির অভিযান শুধু চোরাচালান রোধেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা প্রদান করে। সীমান্তে নিয়মিত অভিযানের কারণে সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

এছাড়া, স্থানীয় মানুষও বিজিবির এই ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম, কৃষি ও বাণিজ্যকে বাধামুক্ত রাখা। লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই স্থানীয় জনগণ সুরক্ষিত থাকুক এবং সীমান্তের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড স্থানীয় জীবিকা বা নিরাপত্তায় ক্ষতি না করে।”

বিজিবি জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্তের প্রতিটি অংশে নজরদারি এবং টহলদারি বৃদ্ধি করা হবে যাতে চোরাচালানকারীরা কোনো ধরনের সুযোগ পায় না। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বিজিবির এই কৌশল স্থানীয় জনগণকে মানসিক নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং সীমান্তের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিজিবির এই অভিযান শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে নয়, দেশের অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধ করা মানেই দেশের ভ্যাট, শুল্ক ও বিভিন্ন করের ক্ষতি রোধ করা। এছাড়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে স্থানীয় জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্যও নিরাপদে চালানো সম্ভব হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে চলতি মাসের এই অভিযানকে বিশেষ উল্লেখযোগ্য করা হয়েছে কারণ এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থমূল্যপূর্ণ পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে বিজিবি আরও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে সীমান্তের আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত