নাসার ফাইনালে চুয়েটের ‘এক্সভিশোনারিজ’ দল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৬ বার
নাসার ফাইনালে চুয়েটের ‘এক্সভিশোনারিজ’ দল

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এর বৈশ্বিক পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর দল ‘এক্সভিশোনারিজ’। গত ২৬ নভেম্বর (বুধবার) নাসার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০০০-এরও বেশি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

চুয়েট থেকে নির্বাচিত দল এক্সভিশোনারিজের সদস্যরা চুয়েটের অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রোবটিকস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এসরো)-র সক্রিয় অংশ। দলের সদস্যরা হলেন জান্নাতুল নাঈম ইসমি (টিম লিডার ও ভিডিও এডিটর), শাওলী বোস (রিসার্চার), প্রিয়া দেব (রিসার্চার), মো. হাবিবুল্লাহ গালিব (ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনার) এবং আসিফ হাসান (ওয়েব ডেভেলপার)। এই দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়েটের নাম উজ্জ্বল করেছে।

নাসার এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় ৬ ও ৭ অক্টোবর, যখন আঞ্চলিক পর্যায়ের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। এই পর্যায়ে প্রায় ১১,৫০০ প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছিল। এরপর ৫ নভেম্বর বৈশ্বিক পর্যায়ের ১২৯০টি দল মনোনয়ন পান, আর সবশেষে ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত পর্বের তালিকা। এই অর্জন চুয়েটের শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, সৃজনশীলতা এবং আন্তরিকতার ফল।

দলের একজন সদস্য, আসিফ হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী, তাদের প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, “আমরা একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি, যা শিশুদের মহাকাশের আবহাওয়ার বিষয়ে শিক্ষিত করবে। এটি গল্পের মাধ্যমে শেখার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যেখানে বাচ্চারা জানতে পারবে স্পেস ওয়েদার বা মহাকাশের আবহাওয়া কী এবং এটি কীভাবে বিভিন্ন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে।”

ওয়েব প্ল্যাটফর্মটি শুধু শিক্ষামূলক নয়, এটি সৌর আবহাওয়ার ওপর নজরদারি করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। শিশুরা এখানে মহাকাশ সম্পর্কিত গেমস ও কুইজ খেলে আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ পাবে। এই ধরনের উদ্ভাবনী ধারণা শিশুদের বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করবে।

নাসার স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ এবার দশমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে। চুয়েট ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে চূড়ান্ত পর্বে আরও দুটি দল সুযোগ পেয়েছে—টিম নোম্যাডস (কুমিল্লা) ও টিম ভিট্রুভিয়ান ৬ (ঢাকা)। চূড়ান্ত পর্বে ১০টি দলকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে, যাদের জন্য নাসার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সদরদপ্তর ভ্রমণের সুযোগ, বিশেষ সম্মাননা এবং একজন নাসা বিজ্ঞানীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ বা অনলাইনে আলোচনার সুযোগ থাকবে।

চুয়েটের ‘এক্সভিশোনারিজ’ দলের সাফল্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। এটি দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক গবেষণার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশ নিতে সক্ষম। এই অর্জন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, দেশের জন্যও গর্বের বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই অর্জনকে উদ্ভাবনী মনোভাব, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সৃজনশীল চিন্তার ফল হিসেবে বিবেচনা করছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ, সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের প্রকল্পকে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিযোগিতার যোগ্য করেছে।

নাসার এই স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ শুধু প্রযুক্তি নয়, শিক্ষার্থীদের মহাকাশ গবেষণা, দলগত কাজ এবং সৃজনশীল সমস্যার সমাধান করার দক্ষতাও বৃদ্ধি করে। ‘এক্সভিশোনারিজ’ দলের উদ্ভাবনী ওয়েব প্ল্যাটফর্ম শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক কৌতূহলও বৃদ্ধি করবে।

চুয়েটের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে। এটি প্রমাণ করছে, দেশের শিক্ষার্থীরাও উদ্ভাবনী গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী দল ঘোষিত হলে, ‘এক্সভিশোনারিজ’ আরও বড় অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত