বরগুনার স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বরগুনার বেতাগীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মহাসিন কাজী নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের পাশাপাশি দণ্ডিতকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

মহাসিন কাজী বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষা মুড়ি ইউনিয়নের মরহুম ওহাব কাজীর ছেলে। আদালতের রায় অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সকালে মক্তবে যাওয়ার পথে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে রাস্তায় একা পেয়ে মহাসিন কাজী গলায় চাকু ধরে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে পরের দিন বেতাগী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের পরে পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মহাসিন কাজীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজুয়ারা সিপু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০২০) এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মহাসিন কাজী নামে আসামির ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমরা আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্ট।”

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বিচার প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই রায়টি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দেশের নারীদের নিরাপত্তা ও শিশুদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে। স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক রায় অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি সমাজে অন্যান্য অপরাধীদের সতর্ক করতে সাহায্য করে।

এ মামলা আবারও প্রমাণ করছে, যে কোনো সময় নারীদের ও শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। বরগুনার এই রায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং প্রমাণ করবে, বিচার ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করতে সক্ষম।

মহাসিন কাজীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কার্যকারিতা, সমাজে শাস্তির দৃঢ়তার বার্তা এবং প্রভাবশালী প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, “ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং অপরাধীদের মনে শাস্তির ভয় তৈরি হয়। এটি একটি শক্তিশালী উদাহরণ।”

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে। স্থানীয় গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সমর্থকরা রায়কে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত