বাগেরহাটে পানের দাম কমে চাষিরা ক্ষতির মুখে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে পানের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং পানের দর কমে যাওয়ায় অনেক চাষি ভবিষ্যতে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকে বরজ ছেড়ে অন্যান্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন।

ফকিরহাটে অবস্থিত টাউন নওয়াপাড়া, ফকিরহাট সদর বাজার ও মানসা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পানের হাটে পাইকারদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম। উপজেলার টাউন নওয়াপাড়ায় প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পান হাট বসে। তবে এবছর পাইকারদের আগ্রহ কম থাকায় বাজারে সরবরাহে ভাটা দেখা যাচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। বরজের কাজে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন উলু, সলাকা, হাড়ি এবং খৈলসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতি আরও বাড়ছে। অন্যদিকে, পানের দাম অর্ধেক কমে যাওয়ায় চাষিরা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছেন। শামবাগাত গ্রামের পানচাষি আবু সাইদ এবং বালিয়াডাংগা গ্রামের আজহার শেখ জানান, পানের দাম গতবছরের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় তারা বরজের কাজ কমিয়ে দিয়েছেন।

ফলশ্রুতিতে উপজেলার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কৃষক পান চাষ ছেড়ে বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকছেন বা পান চাষের জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। চাষিরা জানিয়েছেন, বরজে ছোট ও কুচা পানের বেশির ভাগ অংশ নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিকের খরচ বেড়েছে, তাই তারা কাটতে না পেরে বরজেই পাতা ফেলে রেখেছেন। মূলত রপ্তানি ও পাইকারদের কম আগ্রহের কারণে পানের বাজারে ধস নেমেছে।

একাধিক পাইকার জানিয়েছেন, তারা মূলত এই হাট থেকে পান সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। তবে এবছর চাহিদা কম থাকায় তাদের আগ্রহ কমে গেছে। বিদেশে রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে।

ফকিরহাট কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এ বছর চার হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়েছে। এক হাজার ১১২ একর জমিতে ছোট-বড় মিলে তিন হাজার ৯০০টি পানের বরজ রয়েছে। উপজেলায় তিন হাজার ১৫০ জন কৃষক সরাসরি পান চাষে যুক্ত, আর পান চাষ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন জানান, পান চাষের সবচেয়ে বেশি উৎপাদনের সময় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। সাধারণত এই সময়ে পানের দাম কম থাকে। তবে এই বছর নভেম্বর মাসেও দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফকিরহাটে পানের জন্য কোনো প্রণোদনা প্রকল্প নেই, তবে কৃষি অফিস চাষিদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছে।

বাগেরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম তরফদার বলেন, “বিদেশে রপ্তানি কমে যাওয়া, উৎপাদন বৃদ্ধি, পাইকারদের কম আগ্রহ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কম—এসব কারণে পানের দাম কমে যেতে পারে। পান শিল্পপণ্য না হওয়ায় তাতে বিশেষ মনোযোগও কম।”

চাষিরা মনে করছেন, পান চাষে আগ্রহ হারালে এলাকার অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে। বরজে পান নষ্ট হওয়া, দাম কমে যাওয়া ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে পান চাষ এখন চরম চাপের মুখে। কৃষকরা আশা করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পান চাষে প্রণোদনা ও বাজার সহায়তা প্রদান করলে তাদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

সর্বশেষ, ফকিরহাটে পানের মন্দাভাব শুধু চাষিদের জন্যই নয়, বরং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপণনে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকায়ও প্রভাব ফেলছে। এটি প্রমাণ করছে, একটি মৌলিক কৃষিপণ্য বাজারে মূল্য ও চাহিদার ভারসাম্য ঠিক না থাকলে কৃষক এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের ওপর কী ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত