প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য। ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র শেখ হাসিনা নন, বরং তাঁর নেতৃত্বাধীন পুরো আওয়ামী লীগ দলকেই আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিউরো সাইন্স হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল কুদ্দুসকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নে সাংবাদিকরা জানতে চান—সম্প্রতি বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একটি ফোনালাপ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। সেই আলোকেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তার মন্তব্য কী?
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা সবাই জানেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল বিএনপি। আমাকেও ১১২টি মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং আমি ১৩ বার কারাবরণ করেছি। আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং তারা দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদের ধারক-বাহক হিসেবে কাজ করেছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণগ্রেপ্তার—এসব ছিল তাদের শাসনব্যবস্থার নিয়মিত অনুষঙ্গ।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনাই এককভাবে জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা, হত্যা ও দমন-পীড়নের জন্য দায়ী। আমরা মনে করি, তার বিচার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখন সময় এসেছে দলগতভাবে আওয়ামী লীগকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর। যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাদের কেউই ছাড় পাবে না।”
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, “যে দলে নেতৃত্ব ফ্যাসিবাদের প্রতীক, সে দলকে কি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার দেওয়া উচিত? তারা কি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়? এ প্রশ্ন এখন কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি একটি নৈতিক প্রশ্নও।”
তিনি বলেন, “বিএনপি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, কিন্তু যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের বিচার চাইতে দ্বিধা নেই। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় রক্ষক যদি কেউ থেকে থাকে, সেটা বিএনপি। এই দলই একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে। এখন সময় এসেছে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কাজ করার।”
বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত ও নেতৃত্ব নির্ধারণ করে। তাই যারা মনে করে, নির্বাচন প্রয়োজন নেই, তারা ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। এই দুটি একসাথে চলতে হবে, তাহলেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল থেকে আসা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বিবিসির মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে, তা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এসব তথ্যকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হচ্ছে এবং তারা চাইছেন, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হোক।
বিরোধী রাজনীতির এই ধারায় মির্জা ফখরুলের বক্তব্য শুধু বিএনপির অবস্থানকে শক্তিশালী করছে না, বরং আসন্ন নির্বাচন ও জাতীয় রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, আওয়ামী লীগ এসব বক্তব্যের কী জবাব দেয় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে এই বিবৃতি কতটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।