প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজমান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা গত কয়েক মাসে বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য—চারটি প্রধান ইউরোপীয় দেশ—ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
জানা যায়, এ বিবৃতিতে চারটি দেশ উল্লেখ করেছে যে ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার তীব্র বৃদ্ধি পশ্চিম তীরকে অস্থিতিশীল করছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘এই ধরনের সহিংসতা কেবল স্থানীয় জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি প্রায় দুই দশকের মধ্যে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত অক্টোবর মাসে একমাত্র মাসে ২৬৪টি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০০৬ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। এই তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ই-৪ নামে পরিচিত এই চার দেশের বিবৃতিতে ইসরাইল সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলুক। বিশেষত অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা ইসরাইল সরকারকে অনুরোধ করছি যে তারা দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুক এবং সহিংসতার মূল কারণগুলো সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ নিক।’
বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ধরণের সংযুক্তি—যা আংশিক বা সম্পূর্ণ—ই আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র মনোযোগ এবং চাপ প্রতিফলিত হয়। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা কমানো সম্ভব বলে চার দেশের নেতারা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম তীরে এই সহিংসতার বৃদ্ধি কেবল স্থানীয় জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করছে। ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে, স্থানীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইসরাইলকে তার নীতিগত এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের ওপর যেকোনো অবৈধ হামলা বা বসতি স্থাপনের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এই বিবৃতির মাধ্যমে চার দেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর নিবদ্ধ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার এই প্রবণতা চলতে থাকলে, তা কেবল ফিলিস্তিনিদের জীবনকে বিপন্ন করবে না, বরং আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করবে। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।
ফিলিস্তিনের বেসামরিক জনগণ, যারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতা, বসতি স্থাপনের চাপ ও জবরদস্তি পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দেশের আহ্বান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং মানবিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আহ্বান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল পর্যবেক্ষক নয়, বরং সক্রিয়ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা প্রায়শই ফিলিস্তিনের জমি দখল ও বেসামরিক নাগরিকদের উপর সহিংসতা চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের জীবন, সম্পত্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তাই ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের যৌথ আহ্বান ইসরাইলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য। ফিলিস্তিনি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় দেশগুলোর এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এদিকে, এই যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইল যদি অবিলম্বে বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সহিংসতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণকে নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সরাসরি প্রভাবিত করছে। তাই ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের এই যৌথ আহ্বান শুধু একটি নীতিগত অবস্থান নয়, এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের মান বজায় রাখা, ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে চারটি দেশ সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা কেবল স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত এবং সচেতন উদ্যোগের উপরও নির্ভর করছে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের যৌথ বিবৃতি সেই দায়িত্বের প্রতিফলন।