চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে উদ্বেগ, ভারতের সেনাপ্রধানের সতর্কবার্তা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৩ বার
চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে উদ্বেগ: ভারতের সেনাপ্রধানের সতর্ক বার্তা

প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতাএকটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে ভারতের জন্য নতুন ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান। সম্প্রতি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন, যা ইতোমধ্যেই দেশটির প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেনারেল চৌহানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, চীন ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে এই জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যুক্ত হওয়া ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

দিল্লির প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, জেনারেল চৌহান তার বক্তব্যে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান তাদের মোট অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই চীন থেকে সংগ্রহ করে থাকে। এই সরঞ্জামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজও চীনা নির্মাতাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, সামরিক সহযোগিতার এই জোট অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাওয়ায় ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, হাইপারসোনিক অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে, যেগুলো থেকে শতভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি কোনো রাষ্ট্র দিতে পারছে না। ফলে ভারতকে একযোগে প্রচলিত ও আধুনিক উভয় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, সীমান্তে যে কোনো সময়ে নতুন ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে, তাই প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও যৌথ শক্তি প্রদর্শনই হবে ভারতের জন্য প্রধান করণীয়।

জেনারেল চৌহানের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন মাত্র কয়েকদিন আগে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের বৈঠককে কৌশলগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখলেও ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত ভাগাভাগি আর ঐতিহাসিক জটিল সম্পর্কের কারণে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্ত একসঙ্গে চাপের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে ভারতের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংও কয়েক মাস আগে এক আলোচনায় দাবি করেছিলেন, মে মাসে চার দিনের একটি সামরিক সঙ্কটের সময় ভারত একসঙ্গে চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, পাকিস্তান সম্মুখভাগে থাকলেও চীনের কৌশলগত সহায়তা স্পষ্ট ছিল এবং তুরস্কও নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিল। এতে ভারতকে বহুমুখী সামরিক চাপে পড়তে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের অংশ হওয়ায় বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত যোগাযোগ আগের চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনো সরাসরি কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি। তবুও ভারতের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এমন মন্তব্য দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ সবসময়ই ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিতে অটল থেকেছে। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো ধরনের ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোটের আশঙ্কা ভিত্তিহীন এবং কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন আশঙ্কা উত্থাপন করা হতে পারে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অঙ্গন বরাবরই জটিল এবং সংবেদনশীল। চীন-পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের ছায়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে—এটাই আশা করছেন অভিজ্ঞ কূটনৈতিকরা।

বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চীনের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধানের উদ্বেগবাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। জেনারেল চৌহানের মতে, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভারতের জন্য বড় হুমকি। খবর দ্য ট্রিবিউনের।

জেনারেল অনিল চৌহানের মতে, এই তিনটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভারতের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

এসময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো অপারেশন সিন্দুরের সময় চীনের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় সমর্থন কতটা, তা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন।’

তিনি বলেন, পাকিস্তান তার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম চীন থেকে কিনেছে। তাই চীনা সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতারা সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করবে বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, বর্তমানে যুদ্ধের ধরন অনেক পাল্টে গিয়েছে। ব্য়ালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, হাইপারসোনিক অস্ত্রের মাধ্যমে হামলা থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পাওয়ার পদ্ধতি বিশ্বের কোনো দেশের কাছেই নেই। ফলে ভারতকে পুরনো এবং নতুন উভয় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানান সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান।

চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভারতের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহানের এমন মন্তব্য তিন দেশের মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাত্র ১০ দিন পর এলো। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

এরআগে ভারতের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং বলেছিলেন, মে মাসে চার দিনের যুদ্ধের সময় ভারত তিনটি প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে চীন, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। তার মতে, পাকিস্তান ছিল সম্মুখভাগে। আর চীন তাদের সব ধরণের সহায়তা দিয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত