প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ভ্রমণ এবং দৈনন্দিন চলাচল প্রায় সকলেরই দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ। তবে হঠাৎ করে দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকা, বিদেশ ভ্রমণ বা ব্যস্ত শহরের মধ্যেই মোবাইল নেটওয়ার্ক হারিয়ে গেলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। ঠিক সেই মুহূর্তে নেভিগেশনের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রা হয়ে যায় জটিল, এবং অনেক সময় মানসিক চাপও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী জানেন না, গুগল ম্যাপসে এমন একটি বিল্ট-ইন ফিচার আছে, যা ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবহার করা সম্ভব। এটি হলো ‘অফলাইন ম্যাপস’, যা ডাউনলোড করে রাখলে আপনি যেকোনো সময়ে, যেকোনো জায়গায় নেভিগেশনের সুবিধা নিতে পারেন।
গুগলের অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে থেকেই নির্দিষ্ট এলাকার মানচিত্র ডাউনলোড করে রাখলে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ফোনের জিপিএসের মাধ্যমে পথনির্দেশ পাওয়া যায়। এই ফিচার ব্যবহার করার জন্য প্রথমে গুগল ম্যাপস অ্যাপ খুলতে হবে। এরপর প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে ‘অফলাইন ম্যাপস’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। তারপর ‘চুজ ইউর ওউন ম্যাপ’ এ গিয়ে প্রয়োজনীয় এলাকার মানচিত্র জুম করে ডাউনলোড করার অপশন বেছে নিলে সেই এলাকার ম্যাপ ফোনে সেভ হয়ে যাবে। ডাউনলোড করা এই মানচিত্র দিয়ে গাড়ির জন্য টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন পাওয়া সম্ভব, যদিও ট্রাফিক আপডেট, বিকল্প রুট বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য অফলাইনে দেখা যাবে না।
ওয়াইফাই সংযোগ থাকলে অফলাইন ম্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়। তবে যাত্রার আগে একবার ম্যানুয়ালি চেক করে নিলে নিরাপত্তা আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, গ্রামাঞ্চল, বিদেশ ভ্রমণ, ভিড়পূর্ণ বাজার বা ভূগর্ভস্থ পার্কিং, এমনকি নেটওয়ার্ক ওঠানামা হয় এমন এলাকায় এই ফিচার অত্যন্ত কাজে আসে। ফোনের জিপিএস সবসময় সক্রিয় থাকে, তাই আগে ডাউনলোড করা মানচিত্রের সাহায্যে চলাচল করা সম্ভব এবং এটি বেশ নিখুঁতভাবে কাজ করে।
ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ। ওয়াইফাই সংযোগে ম্যাপ ডাউনলোড করে নিন। হোটেল, আশপাশের এলাকা এবং সম্ভাব্য যাত্রাপথসহ কিছুটা বড় এলাকা সেভ করা ভালো। নিয়মিতভাবে যাচাই করুন যে, ডাউনলোড করা ম্যাপ আপডেট হচ্ছে কি না। যেহেতু জিপিএস ব্যাটারি খরচ করে, তাই ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে ম্যাপ এসডি কার্ডে সেভ করলে ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজও বাঁচে।
অফলাইন ম্যাপসকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য কিছু কৌশল রয়েছে। যেমন, রুট আগে অনলাইনে দেখে নিলে অফলাইনে সহজে কাজ হয়। আলাদা ম্যাপের নাম পরিবর্তন করে রাখা যায়, যেমন “সিলেট ট্রিপ” বা “ঢাকা নর্থ”। শক্তিশালী ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ডাউনলোড করলে অসম্পূর্ণ ম্যাপের ঝুঁকি কমে। আগে থেকে ‘সেভড প্লেসেস’ মার্ক করলে তা অফলাইনে দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া খোলা আকাশে থাকলে জিপিএস সিগন্যাল সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।
তবে কখনও কখনও সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন, ডাউনলোড করা এলাকার পরিধি যদি যথেষ্ট বড় না হয়, ম্যাপের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, ফোনে স্টোরেজ কম থাকলে, টানেল বা বদ্ধ স্থানে জিপিএস দুর্বল থাকলে এবং ট্রাফিক বা বাস-ট্রেনের মতো লাইভ ফিচারে প্রবেশের চেষ্টা করলে। এই ধরনের সমস্যার সমাধান সাধারণত ম্যাপ আপডেট করা বা বড় এলাকার ম্যাপ ডাউনলোডের মাধ্যমে সহজেই সম্ভব।
এই ফিচারের মাধ্যমে যাত্রী বা ভ্রমণকারী যে কোনো অবস্থায় পথ হারানোর ঝুঁকি কমিয়ে নিতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগল ম্যাপসের অফলাইন ফিচারটি ভ্রমণকারীদের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা জাল তৈরি করে। বিশেষ করে যারা প্রায়শই পাহাড়ি বা দূরবর্তী এলাকায় ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এটি জীবনধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। শুধু তাই নয়, বিদেশ ভ্রমণের সময় ডেটা রোমিং খরচও বাঁচানো যায়।
অফলাইন ম্যাপ ব্যবহারের সুবিধা ছাড়াও এটি মানসিক নিরাপত্তা দেয়। যাত্রাপথে হঠাৎ করে নেটওয়ার্ক চলে গেলে যে উদ্বেগ হয়, তা অনেকাংশে কমিয়ে আনে এই ফিচার। এছাড়া, যেকোনো জায়গায় ঘুরাঘুরি করার সময় পথ ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়। তাই, প্রযুক্তি সচেতন ভ্রমণকারীরা যাত্রার আগে এই ফিচার ব্যবহার করে তাদের যাত্রা আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলতে পারেন।
মোটের ওপর, গুগল ম্যাপসের এই অজানা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ফিচারটি যেকোনো ভ্রমণকারী বা দৈনন্দিন চলাচলকারীকে সাহায্য করে, যাতে তারা নেটওয়ার্ক সমস্যা ছাড়াই পথনির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন এবং যাত্রা নিরাপদ ও সুনির্দিষ্ট হয়।