তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিএনপিতে নতুন উচ্ছ্বাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিএনপিতে নতুন উচ্ছ্বাস

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার গভীর রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে তারেক রহমানের বহু বছরের নির্বাসন জীবনের সমাপ্তি এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।

বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি দলের নিয়মিত বৈঠক হলেও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ফেরার প্রস্তুতি চলছে এবং বিএনপি আশাবাদী, তিনি খুব শিগগিরই দেশে পৌঁছাবেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ তিনি প্রকাশ করেননি, তবে ‘শিগগির’ শব্দটিই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বিএনপি নেতারেক রহমান। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দমনপীড়ন, একাধিক মামলার চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতা তার নির্বাসন জীবনের বড় কারণ ছিল। গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আদালতের রায়গুলোতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীরা তার দেশে ফেরাকে এখন সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে বিএনপির নির্বাচন–কেন্দ্রিক সংগঠিত কার্যক্রম অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে যাবে। তার উপস্থিতিতে দলের কর্মীরা আরও শক্তিশালী হবেন। তিনি জানান, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নতুন উদ্দীপনায় কাজ করছে এবং দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারেকের দেশে ফেরায় কোনো আইনগত বাধা আছে কি না, এ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়ার মতো কোনো আইনি ঝুঁকি নেই। সরকারও বিভিন্ন সময় জানিয়েছে, দেশে ফিরতে চাইলে আইনগতভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং প্রয়োজন হলে নিরাপত্তার সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আশাবাদ আরও বেড়েছে।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহউদ্দিন জানান, তার সকল স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত তথ্য দলের চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের কাছে রয়েছে এবং তিনিই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন। তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার উপর দল গভীরভাবে নজর রাখছে এবং তার চিকিৎসার বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরা একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতার পালাবদলের ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হওয়ায় বিএনপির সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। দলটির নেতারা মনে করেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এই সক্রিয়তাকে আরও গতিশীল করবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু বিএনপি দলকেই প্রভাবিত করবে না, জাতীয় রাজনীতির গতিপথেও প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তার জনপ্রিয়তা, সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তার প্রতি সমর্থকদের আশা দীর্ঘদিন ধরে জমে রয়েছে। তার দেশে ফেরাকে অনেকেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

বিএনপির অভ্যন্তরে তারেকের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাও উল্লেখযোগ্য। দূর থেকে দল পরিচালনা করলেও তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে দলের নীতি–নির্ধারণী সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন এবং দল পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে বাস্তব রাজনীতিতে সরাসরি মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে বেশি। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তারেক রহমানের ফেরার প্রয়োজনীয়তা তত স্পষ্ট হচ্ছে।

দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বলছেন, তার দেশে ফেরার ঘোষণা তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমান বিএনপি সমর্থকরা মনে করছেন, তারেকের প্রত্যাবর্তন শুধু সাংগঠনিক শক্তি নয়, বিরোধীদলীয় রাজনীতিতেও একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলগুলোও বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ তারেক রহমান মাঠে ফিরলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে।

তবে তার দেশে ফেরার সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং নির্বাচনী পরিবেশের জটিলতা এখনও পুরোপুরি নিরসন হয়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। যদিও বিএনপি বলেছে তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, তবুও বাস্তবতা সবসময়ই অনিশ্চিত।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন, সরকারের আচরণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনরুদ্ধার, ভোটার তালিকা, প্রচার কৌশল–সব বিষয়ই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। দলটি মনে করছে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা এখন আগের চেয়ে আরো জরুরি।

বাংলাদেশের রাজনীতি গত কয়েক বছরে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। তাই তারেক রহমানের দেশে ফেরায় রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়তে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি ফিরে এলে রাজনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার পরিবেশও তৈরি হতে পারে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করেছে, তারা সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখন শুধু বিএনপির রাজনীতির নয়, পুরো দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতারা তার ফেরাকে দলের নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন। জনগণও অপেক্ষায় আছে, ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান সত্যিই কত দ্রুত দেশে ফিরবেন এবং ফিরলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কী পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যা ভবিষ্যতের গতিপথ বদলে দিয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত