৫৫ কোটি টাকার ট্রাক বিশ্রামাগার মাদকসেবীদের আস্তানা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ বার
৫৫ কোটি টাকার ট্রাক বিশ্রামাগার মাদকসেবীদের আস্তানা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়ায় নির্মিত ৫৫ কোটি টাকার দূরপাল্লার ট্রাকচালকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগারটি পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এ অব্যবস্থাপনা ট্রাকচালকদের জন্য সুবিধার অভাব সৃষ্টি করায়, বর্তমানে ভবনের সামনে ধান শুকানো, গরু রাখা এবং রাতে মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এ অব্যবস্থার কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশে চুরি-সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ট্রাক টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ২০২০ সালে সম্পন্ন হয়। মহাসড়কের পাশে ১৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা এই বিশ্রামাগারে ১০০টি ট্রাক পার্কিং, চালকদের জন্য শয়নকক্ষ, ক্যান্টিন, গোসলখানা, নামাজের জায়গা, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাকক্ষ এবং যানবাহনের ত্রুটি মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপ এবং ওয়াশজোন থাকার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও এই সুবিধা এখনও চালু হয়নি।

হিলি থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক ওসমান জানান, টার্মিনাল ও বিশ্রামাগারটি চালু না হওয়ায় তারা এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে হোটেলের সামনে বা রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে, যা ট্রাকের তেল ও মালামাল চুরিসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। চট্টগ্রাম থেকে বগুড়াগামী মালবাহী ট্রাকের চালক নুরুল হক বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেখছেন যে টার্মিনাল ও বিশ্রামাগারটি নির্মাণ হলেও অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে। ফলে কোনো সুবিধা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দ্রুত এটিকে চালুর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক বিভাগের উদ্যোগে চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগার স্থাপন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলা এবং ট্রাকচালকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের পাশের এই বিশ্রামাগারও সেই উদ্যোগের অংশ।

স্থানীয়রা বলছেন, ট্রাকচালকরা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে বিশ্রাম নিতে না পারায় তাদের কর্মজীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নিরাপদ বিশ্রামের অভাবে দীর্ঘ দূরপাল্লার যাত্রায় চালকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এ বিষয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দেরির কারণে ভবনের অবকাঠামোতে চুরি ও ক্ষতির মতো ঘটনা ঘটছে।

সড়ক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেন, মহাসড়কের পাশে এই ধরনের আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল ও বিশ্রামাগারের অভাব দূরপাল্লার মালবাহী যানবাহনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় পরিবহন সেক্টরের কর্মীরা বিপাকে পড়ছেন। এছাড়াও, বিশ্রামাগারের অপ্রচলিত অবস্থা স্থানীয় জনসাধারণের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনায় ট্রাকচালকরা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন, যাতে তাদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বিশ্রামাগারটি দ্রুত চালু করা যায়। তারা আশা করছেন, সড়ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ট্রাকচালকদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি ব্যবহারযোগ্য করবেন।

উল্লেখ্য, মহাসড়কের পাশে পার্কিং ও বিশ্রামাগারের স্থাপনা দেশের দূরপাল্লার পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি চালু হলে চালকরা নিরাপদে বিশ্রাম নিতে পারবেন, ট্রাক ও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সড়কে কর্মক্ষমতা বাড়বে। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে এখন তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত