প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পদে নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিটে ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন গঠন ও জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগের নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম রিটটি দায়ের করেন। রিটে বলা হয়েছে, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে। যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
রিটকারী আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় পরিচালনা ও নির্বাচন পরিচালনা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন একটি পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তার নিজস্ব ক্যাডার সার্ভিস ও কর্মকর্তাদের থাকা বাধ্যতামূলক।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং নির্বাহী বিভাগ তাকে সহযোগিতা করবে। বাস্তবে দেখা যায়, নির্বাচন পরিচালনার পুরো দায়িত্বই নির্বাহী বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এটি সংবিধানের চরম লঙ্ঘন।’
ইয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের আবারও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘তাদের হাতে দায়িত্ব দিলে একটি প্রভাবিত ও একপেশে নির্বাচন অনিবার্য হবে।’
রিটে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ক্যাডার সার্ভিস গঠন, ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নির্বাচনে শুধু কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশন ও সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে রিটটি হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। রিটের মাধ্যমে মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান অনুসারে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত করা এবং নির্বাচনে প্রশাসনিক প্রভাব কমানো।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে এই রিট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি যদি মঞ্জুর হয়, তাহলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা কমানো এবং কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।
এদিকে, রিট দায়েরের প্রেক্ষাপটেও নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান আছে। তবে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের সম্ভাবনা থাকায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ে সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি বিশেষ নজর রাখছে।
এ রিটের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের কাঠামো ও নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এটি আইনগত দিক থেকে একটি নজরকাড়া উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।