প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে অবস্থানকালে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন। দেশের বর্তমান সেনাপ্রধানকে ইমরান ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এ মন্তব্য করেন জেলেই তার বোন ড. উজমা খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। ড. উজমা খান পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) পোস্টে এই মন্তব্য শেয়ার করেন।
ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, অসীম মুনিরের নীতিমালা পাকিস্তানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তিনি বলেন, “মুনির পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থকে কোনো গুরুত্ব দেন না। তার কর্মকাণ্ড মূলত পশ্চিমাদের সন্তুষ্ট করার জন্য করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে ‘মুজাহিদ’ হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য তিনি আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনাপ্রধান প্রথমে আফগান শরণার্থীদের হুমকি দেন, পরে তাদের দেশ থেকে বিতাড়নের নির্দেশ দেন এবং ড্রোন হামলা চালাতে বলেন। এই কারণে দেশে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান ঘটেছে। তিনি মুনিরকে ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সেনাপ্রধানের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনি ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করেছে।
ইমরান খান তার ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে কারাগারের নির্দেশও সরাসরি সেনাপ্রধানের নির্দেশে হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমাকে চার সপ্তাহ ধরে একাকী সেলে বন্দি রাখা হয়েছে। কারও সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নেই। এমনকি জেল ম্যানুয়ালে প্রদত্ত মৌলিক সুবিধাগুলোও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তার রাজনৈতিক সহকর্মী, আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইমরানের অভিযোগ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর উপর দৃষ্টিপাত করে একটি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির ভেতর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। তার মতে, সেনাপ্রধানের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার বিপন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।
জেলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ইমরান বলেন, তিনি এবং তার স্ত্রী একাকী বন্দি থাকার সময় মানবিক ও আইনগত যে সুবিধাগুলি পাওয়ার অধিকার ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইমরানের মন্তব্য পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের অরুচিপূর্ণ নীতি দেশের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করছে। তিনি জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও শান্তি হুমকির মুখে।
দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরানের এই মন্তব্য দেশটির সামরিক-রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা আরও বৃদ্ধি করবে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরকারের কার্যক্রমের উপর এটি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেনাপ্রধানের নীতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
ইমরানের জেল অবস্থান, তার রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট মনোযোগ কাড়ছে। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এবং বিভাজনকে দৃঢ় করার সম্ভাবনা রাখে।