ছত্তিশগড়ে যৌথবাহিনী-মাওবাদী সংঘর্ষে ১৫ নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
ছত্তিশগড় মাওবাদী সংঘর্ষ নিহত

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যের বিজাপুর ও দান্তেওয়াড়া জেলার সীমান্তবর্তী গভীর বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ মাওবাদী ও তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা। এই সংঘর্ষটি মাওবাদী গেরিলাদের দমনে চলমান বড় ধরনের অভিযানের মধ্যেই ঘটে।

এএফপির বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল। অভিযানে পুলিশের তিন কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ১২ মাওবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাওবাদী শীর্ষ নেতা মাদভি হিদমা, তার স্ত্রীসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘর্ষ মাওবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কৌশলগত অভিযানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৩০০ মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। তবে মাওবাদীরা সম্প্রতি কিছুদিনের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম স্থগিত করে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল।

ছত্তিশগড় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুন্দররাজ পাট্টিলিঙ্গম জানান, এই অভিযান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সময় মাওবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে হামলা চালালে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত কর্মকর্তারা সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছিলেন।

মাওবাদী বা নকশাল গ্রুপ কয়েক দশক ধরে ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের দাবি তুলে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে। ১৯৬৭ সালে সূচিত এই আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত বছর সতর্ক করে বলেন, মাওবাদীদের সামনে এখন বা তো আত্মসমর্পণ, না হলে সরকারের সর্বাত্মক অভিযানের মুখোমুখি হওয়ার পথই খোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই এই সশস্ত্র বিদ্রোহ দমন সম্ভব হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ ভারতের মাওবাদী সমস্যা সমাধানের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরণের অভিযানকে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংঘর্ষের কারণে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রভাবিত হয়েছে।

ছত্তিশগড় রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাওবাদীদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলাপ ও নীতিগত সমাধান ছাড়া এই সমস্যা সমাধান করা হবে। এই সংঘর্ষের পরও প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযানের মধ্য দিয়ে মাওবাদী আন্দোলনের মূল ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হবে।

সংঘর্ষের এই ঘটনা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মাওবাদী নীতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার গুরুত্ব আরও প্রমাণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ একসাথে চললে আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত