রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি চুক্তি ইউরোপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সম্প্রতি ব্রাসেলসে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর মন্তব্য করেছেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি চুক্তি শুধু যুদ্ধ বন্ধ করবে না, এটি পুরো ইউরোপের ভবিষ্যত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আলোচনার জন্য তুরস্কের তুলনা হয় না এমন একটি উপযুক্ত স্থান।

ফিদান আরও জানান, গত গ্রীষ্মে ইস্তাম্বুলে তিনবার যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে যে তুরস্কই শান্তি আলোচনা আয়োজনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত দেশ। প্রতিটি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা দেখিয়েছি যে, আলোচনার জন্য তুরস্ক একটি নিরপেক্ষ এবং কার্যকর স্থান। এখানে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ন্যাটো ও ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, যদি উভয় পক্ষ সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসে, তবে চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ হবে।

ফিদান আরও জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক বিশ্বাস করে যে রাশিয়া ও ইউক্রেন শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধের জন্য আরও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি কেবল যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাটি সাফল্যের দিকে এগোচ্ছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো প্রমাণ করেছে যে উভয় পক্ষই নিরপেক্ষ পরিবেশে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ফিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তি চুক্তি কেবল সামরিক সংঘাতের সমাধান নয়, এটি ইউরোপের ভবিষ্যতকে নতুনভাবে আকার দিতে সাহায্য করবে।

তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে যে, এটি কেবল দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাবে না, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক ভারসাম্য স্থাপন করবে। ফিদান বলেন, “একটি স্থায়ী সমাধান হলে এটি ইউরোপে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা আশা করি উভয় পক্ষই বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফিদান বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছি যে তুরস্ক আলোচনার জন্য সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং কার্যকর স্থান। এটি শুধুমাত্র যুদ্ধ বন্ধ করবে না, বরং ইউরোপের ভবিষ্যত গঠনেও ভূমিকা রাখবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি যদি সম্ভব হয়, তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো ইউরোপীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে গঠন করবে। তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনার ফলে সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

ফিদান এই বৈঠকে উভয় পক্ষের জন্য ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে, তুরস্ক যে কোনও পর্যায়ে সমাধান আনার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তার মতে, শান্তি চুক্তি কেবল যুদ্ধ বন্ধের জন্য নয়, এটি পুরো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত