প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত ভূমিকম্পে বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভূমিকম্পের কম্পনে রাজধানীর মানুষরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অনেক বাসিন্দা একাধিকবার কম্পনের দিকেও সতর্ক হয়ে ওঠেছেন। ভূমিকম্পের মাত্রা তেমন বড় না হলেও এর প্রভাব ও আতঙ্কের কারণে মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের মন্তব্য দিয়েছেন ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি ভূমিকম্পের প্রসঙ্গে লিখেছেন, “ভেবে দেখেছেন কি? আজ ভূমিকম্পের তীব্রতা আরো ভয়াবহ হলে খুব কম সংখ্যক মানুষের শেষ আমল হতো ফজরের নামাজে। সেই লিস্টে আপনি থাকতেন তো? উত্তর ‘না’ হলে, শুধরে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এখনো। এই কম্পনে টের না পেলেও, চূড়ান্ত কম্পন কিন্তু ঠিকই টের পাইয়ে দিবে। তাই আসুন, সময় থাকতে নিজেদের শুধরে নিই।”
আজহারী আরও বলেন, মানুষ কি নিশ্চিত যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি আমাদের সহ এই জমিনকে ধসিয়ে দেবেন না, এবং তা আকস্মিকভাবে থর থর করে কাঁপতে থাকবে না। তিনি কোরআনের সূরা আল-মুলক-এর ১৬ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে সতর্ক করেন, যে সর্বোচ্চ শক্তিধর ঈশ্বরই প্রকৃত নিয়ন্ত্রক এবং মানুষকে সময়মতো শুধরে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার বক্তব্যের মূল থিম হলো মানুষকে আত্মসমালোচনা ও ধর্মীয় দায়িত্ব সচেতনতার প্রতি আহ্বান করা।
রাজধানীর ভূমিকম্পের ফলে অনেক মানুষই রাতে আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে আশেপাশের মুক্ত জায়গায় অবস্থান করেছেন। বিশেষ করে বাচ্চা ও বৃদ্ধরা এই ধরনের কম্পনে বেশি আতঙ্কিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন এবং অনেকেই নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছেন।
বিভিন্ন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে যদিও বড় ধরনের প্রাকৃতিক কম্পন অনেক সময় খুব কম হয়, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের কম্পনের ফলে ভবনের ফাটল, মানুষের আতঙ্ক এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। তারা সতর্ক করেছেন, সবাই যেন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির স্থাপত্য ও কাঠামোগত বিষয়গুলো পরীক্ষা করে নেয়।
আজহারীর বার্তা শুধু ভূমিকম্পের প্রাকৃতিক প্রভাবের দিকে নয়, বরং মানুষের আত্মসমালোচনা ও সময়মতো সঠিক ধর্মীয় চেতনা মেনে চলার গুরুত্বের ওপরও গুরুত্বারোপ করে। তার বক্তব্যে ধর্মপ্রাণ মানুষদের জন্য সতর্কবার্তা এবং আত্মপুনর্বিবেচনার আহ্বান স্পষ্ট। তিনি বলেন, সময় থাকতে মানুষ যদি নিজেদের শুধরে নেয়, তবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
রাজধানীতে এই ভূমিকম্প এবং আজহারীর সতর্কবার্তা সামাজিকভাবে বেশ আলোচিত হচ্ছে। অনেক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তার বার্তা অনুসরণ করে আত্মসমালোচনার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করারও বার্তা মানুষকে ভাবাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা এখন শুধু ভূমিকম্পের জন্য নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে সময়মতো সতর্কতা ও আত্মসংযম বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করছেন।
এই ঘটনার ফলে রাজধানীর মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়া গেছে। কম্পনটি যদিও বড় ধরনের ক্ষতি তৈরি করতে পারেনি, তবে এটি মানুষকে সময়মতো সতর্ক হওয়ার এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখার শিক্ষা দিয়েছে।