প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন। কাতার সরকারের দেয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তিনি যাত্রা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী।
যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনামুল হক চৌধুরী বলেন, “চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সকালেই তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন।” তিনি আরও জানান, চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং বিমানযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দীর্ঘদিনের জটিল রোগসমূহের কারণে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন।
এর আগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) তার চিকিৎসায় যুক্ত হয় যুক্তরাজ্য ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। এ দিন সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছেন তারা। মেডিকেল বোর্ড ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিএনপি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশব্যাপী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিভিন্ন ধরনের প্রার্থনা ও দোয়ার আয়োজন করা হবে। শুক্রবার দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আশা করি দেশবাসী দেশনেত্রীর রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা করবেন। তাঁর সুষ্ঠু ও দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলের সহমর্মিতা প্রয়োজন।”
এদিকে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত হন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি চিকিৎসক দলের সঙ্গে বৈঠক করে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও রোগীর তত্ত্বাবধানে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেন।
চেয়ারপারসনের বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, বিদেশে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দ্রুত সুষ্ঠু হবে এবং তিনি স্বাভাবিক জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসবেন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত আয়োজন, বিমানের যাত্রা নিরাপত্তা এবং বিদেশে চিকিৎসার খরচ সংক্রান্ত বিষয়গুলো কাতার সরকারের সহযোগিতায় সমাধান করা হয়েছে। এতে করে চেয়ারপারসনের যাত্রা আরও নিরাপদ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ তাঁর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। তাই বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নেওয়া তাঁর সুস্থতার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।