প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের ভবিষ্যত নিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হওয়ার পর সালাউদ্দিন পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিসিবিতে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে সেই পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়নি। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি বহাল থাকছে দেশের অন্যতম সফল এই কোচের সঙ্গে।
আগামী দুই মাসে বাংলাদেশের কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই। তবে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। চুক্তি বহাল থাকায় সালাউদ্দিন বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকবেন। তার সঙ্গে চুক্তি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত রয়েছে। এর ফলে তিনি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলের প্রস্তুতি তদারকিতে অব্যাহতভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কেবল এক সিরিজের জন্য দায়িত্ব পাওয়া আশরাফুলের চুক্তিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ড সিরিজে আশরাফুলের কার্যক্রম এবং কোচিং কার্যক্রমে বোর্ড সন্তুষ্ট। তাই শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নয়, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ড সিরিজ চলাকালে বিসিবির প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম আশরাফুলের সঙ্গে তার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় দুই পক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বিপিএলের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়মিত কোচিং স্টাফের সবাই বহাল তবিয়তে থাকবেন। আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষের পর ক্রিকেটাররা আপাতত ছুটি কাটাচ্ছেন, তবে বিসিবি দীর্ঘ বিশ্রামের সুযোগ দিচ্ছেন না। ৬ ডিসেম্বর থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে এক সপ্তাহের ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোচিং স্টাফের সকল সদস্যও অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন জানাচ্ছে, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের এই প্রস্তুতি বিশ্বকাপের আগে দলের সামঞ্জস্য বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন কৌশল, টেকনিক এবং মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে। সালাউদ্দিন ও আশরাফুলের অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে ভালো ফলাফলের লক্ষ্য নিয়ে।
বিসিবির এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, জাতীয় দলের স্থিতিশীলতা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কোচিং স্টাফের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চলছে। খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দলীয় সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নতুন কৌশল অনুশীলন করবে। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য ইতিমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।
সালাউদ্দিন ও আশরাফুলের বিশ্বকাপে থাকার ঘোষণা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন, যা জাতীয় দলের শক্তি ও পারফরম্যান্স উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।