প্রিমিয়ার লিগ মালিক টনি ব্লুমের বিরুদ্ধে বিশাল জুয়ার সিন্ডিকেট অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রাইটনের মালিক টনি ব্লুমের

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে আর্থিক কেলেঙ্কারি নতুন নয়, তবে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের প্রধান মালিক ও চেয়ারম্যান টনি ব্লুমকে ঘিরে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগ ফুটবল অঙ্গনের দৃষ্টি ফের নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সফল পেশাদার জুয়াড়ি হিসেবে খ্যাত ব্লুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নাকি গোপনে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল জুয়ার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। অভিযোগটি শুধু আর্থিক অপকর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে যুক্ত হয়েছে রাজনীতিক সংশ্লিষ্টতা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতা। ফলে পুরো ঘটনাটি ধীরে ধীরে বড় আকারের আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি বেটিং অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হতো রিফর্ম ইউকের সংসদ সদস্য নাইজেল ফারাজের সাবেক চিফ অব স্টাফ জর্জ কট্রেলের নামে। হাইকোর্টে জমা দেওয়া ১৯ পৃষ্ঠার নথির ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, কট্রেল নাকি একটি বড় জুয়ার সিন্ডিকেট চালাতেন, এবং যেসব অ্যাকাউন্টে বাজি ধরা হতো তার ওপর তাকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রদান করা হয়েছিল। নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, কট্রেল আসলে ব্লুমের পক্ষে কাজ করতেন এবং তার পরিচয়-প্রভাবকে ‘স্টকিং হর্স’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো যাতে প্রকৃত মালিকানা আড়ালে রাখা যায়।

এ মামলার আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র রায়ান ডুডফিল্ড, যিনি ব্লুমের সাবেক দীর্ঘদিনের সহযোগী। ডুডফিল্ড অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের মুনাফা থেকে তার পাওনা প্রায় ১৮৯ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৩ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। তার দাবি, তিনি বেটিং গ্রুপের মুনাফার সাত শতাংশ পাওয়ার কথা ছিল, যা হিসেব করলে সর্বোচ্চ ১৭.৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দাঁড়ায়। ডুডফিল্ডের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে ব্লুম ও সিন্ডিকেট অন্যায়ভাবে তার প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছেন এবং বেটিং অ্যাকাউন্টগুলোর প্রকৃত মালিকানা গোপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন।

নথিতে উল্লেখ আছে, কট্রেল খুব সফল জুয়াড়ি ছিলেন না এবং প্রায়ই বড় অঙ্কের অর্থ হারাতেন। এরই সুযোগে কট্রেলের অ্যাকাউন্টগুলো সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যাতে তিনি নিজে বাজি ধরতে না গিয়ে শুধু নাম ব্যবহার করতে পারেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেট নানা সময়ে ফুটবলার, ক্রীড়াবিদ এবং ব্যবসায়ীদের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলত এবং এসব নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ বেটিং মার্কেটে বাজি রাখা হতো। বার্ষিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের টার্নওভার ছিল তাদের, যা ব্রিটিশ বেটিং শিল্পেও বিরল।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, মামলাকারীকে জানানো হয়েছিল যে সিন্ডিকেট কট্রেলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বন্ধ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণ পাওয়া যায়, সিন্ডিকেট সেই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করেই উল্লেখযোগ্য মুনাফা করছিল। এ অবস্থায় আদালতের নজরে আসে বিষয়টি গোপন করার নানা প্রচেষ্টা।

ব্রাইটন চেয়ারম্যান টনি ব্লুম অবশ্য এখনও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেননি। কট্রেল ও ব্লুম উভয়ের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। উচ্চ আদালতে বিষয়টির শুনানি শুরু হয়েছে, এবং ক্রীড়া অঙ্গনসহ জুয়ার বাজারে তা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

টনি ব্লুম শুধু একজন বিনিয়োগকারী বা ক্লাব মালিক নন; তিনি জুয়ার জগতে কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত। পোকার, বেটিং অ্যানালিটিক্স ও পরিসংখ্যানভিত্তিক জুয়া শিল্পে তার দক্ষতা বহুদিনের। তার মালিকানাধীন ‘স্টারলিজার্ড’ নামের একটি অ্যানালিটিক্স ফার্ম বিশ্বব্যাপী বেটিং মার্কেটে তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিখ্যাত। ব্লুম ২০০৯ সালে ব্রাইটনের চেয়ারম্যান হন এবং বহু আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিপুল বিনিয়োগ করে দলটিকে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে তুলে আনেন। ৯৩ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে এমেক্স স্টেডিয়ামের উন্নয়নও তার অন্যতম অবদান।

তার নেতৃত্বে ব্রাইটন ইউরোপীয় ফুটবলে ‘মডেল ক্লাব’ হিসেবে পরিচিত হয়। ময়সেস কাইসেডো, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, মার্ক কুকুরেয়া, ইভেস বিসুমা, বেন হোয়াইটের মতো প্রতিভাকে কম দামে কিনে পরবর্তীতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার স্কাউটিং সাফল্য এখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। নতুন কোচ ফাবিয়ান হুরজেলারের অধীনে গত মৌসুমেও দলটি প্রিমিয়ার লিগে অষ্টম হয় এবং ইউরোপীয় স্পটের দৌঁড়ে ছিল শেষ পর্যন্ত। চলতি মৌসুমেও তাদের সাফল্য অব্যাহত রয়েছে; ১৪ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে সপ্তম স্থানে।

তবে মাঠের এই সাফল্যকে ছাপিয়ে এখন সব আলোচনায় বড় হয়ে উঠেছে এই বিশাল জুয়া সিন্ডিকেটের অভিযোগ। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু ব্রাইটনের জন্য নয়, পুরো প্রিমিয়ার লিগের সুনামের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানবে। প্রশ্ন উঠতে পারে ক্লাবের আর্থিক স্বচ্ছতা, মালিকের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং বেটিং সংক্রান্ত নীতিমালার ওপর।

ব্রাইটনের সামনে এখন ব্যস্ত সূচি—ওয়েস্ট হ্যাম, লিভারপুল, সান্ডারল্যান্ড ও আর্সেনালের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। তবে মাঠের বাইরে ঝড় থামবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আদালতের রায় ও আগামী শুনানির ওপর নির্ভর করবে টনি ব্লুমের ভবিষ্যৎ এবং এ অভিযোগে ব্রাইটন কতটা সংকটে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত