১৩ লাখেরও বেশি কোরবানির চামড়া এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোতে রাখা হয়েছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫
  • ৩০ বার
১৩ লাখেরও বেশি কোরবানির চামড়া এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোতে রাখা হয়েছে।

প্রকাশ:  ১২ জুন ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর চামড়া লবণ দিয়ে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণের জন্য পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই প্রস্তুতির ফলে ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এবার রেকর্ড পরিমাণ চামড়া সংরক্ষিত হয়েছে।

বিসিকের এই কার্যক্রমে স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা, সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো, সংরক্ষণের নিয়মাবলি প্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসে।

সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করে উপযুক্ত মূল্য পেতে পারে। এর ফলেই গত বছরের তুলনায় এবারে বড়সড় অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোতে যেখানে প্রায় ২.০৯ লক্ষ চামড়া সংরক্ষিত হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে ৯,৩৩০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৩.০৮ লক্ষ চামড়া সংরক্ষণ করেছে—যা একটি রেকর্ড।

এছাড়া আড়তদার, ব্যবসায়ী এবং ট্যানারি মালিকরা নিজেরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় লবণ সংগ্রহ করে চামড়া সংরক্ষণ করেছেন। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৬১ হাজার ৭৪৮ মেট্রিক টন। তবে সুরক্ষিতভাবে চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৯৩ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন লবণ মজুত করা হয়, ফলে কোথাও কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি।

তবে দেশের কয়েকটি এলাকায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, যেখানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় লবণ না দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে চেয়েছে এবং কিছু আড়তদারও দাম নিয়ে দরকষাকষিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এসব কারণে কিছু চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে সাভার ট্যানারি নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (সিইটিপি) আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল সরবরাহ, ইঞ্জিনের মেরামত এবং পুকুর খননসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চামড়া প্রক্রিয়াকরণের পর পশুর মাথা, লেজ বা অন্যান্য অবশিষ্টাংশ যেন খোলা স্থানে বা নদীর পাড়ে ফেলা না হয়, সে বিষয়ে সকল ট্যানারি মালিকদের পূর্বেই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ৮টি প্রতিষ্ঠানকে ট্যানারি এলাকা বাইরে এসব উপাদান বিক্রির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

যদিও খুব সামান্য কিছু অবশিষ্টাংশ সিইটিপির অজান্তে নদীর পাড়ে ফেলার খবর পাওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্ক নজরদারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সরকার ও বিসিকের সমন্বিত প্রস্তুতি এবং কঠোর তদারকির ফলে এবারের কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংরক্ষণে বড় ধরণের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এতে করে দেশের চামড়া শিল্প যেমন লাভবান হবে, তেমনি দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত