ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কঙ্গো–রুয়ান্ডার শান্তিচুক্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কঙ্গো–রুয়ান্ডার শান্তিচুক্তি

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ওয়াশিংটনে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এবং রুয়ান্ডা দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এবং আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন।

চুক্তির আগে কঙ্গোর খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনী এবং রুয়ান্ডার সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছিল। কঙ্গো সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, বিদ্রোহীরা শান্তি প্রক্রিয়া ভঙ্গের চেষ্টা করছে, তবে এম২৩ দাবি করেছে যে প্রথম হামলা সেনাবাহিনীই চালিয়েছে। বছরের শুরুতে পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ এলাকা দখল করার পর সংঘর্ষে হাজারো মানুষ নিহত এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিস’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, এটি আফ্রিকা ও বিশ্বের জন্য “একটি মহান দিন।” তিনি দুই দেশের নেতাদের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন যে, চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তারা জনগণের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলো কঙ্গো ও রুয়ান্ডায় বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন দুই দেশের নেতা—ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে। অনুষ্ঠানে কেনিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, টোগোর নেতারা এবং উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট, পাশাপাশি কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। কাগামে ট্রাম্পকে ‘নিরপেক্ষ’ নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, আর শিসেকেদি ‘গভীর কৃতজ্ঞতা ও আশাবাদ’ প্রকাশ করেছেন।

তবে চুক্তির মধ্যেও অস্থিরতা রয়ে গেছে। এম২৩-এর প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না; তারা কাতারের মধ্যস্থতায় কঙ্গো সরকারের সঙ্গে আলাদা আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতা স্থায়ী শান্তি আনবে কি না তা অনিশ্চিত। দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক ব্রাম ভেরেলস্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি এবং এম২৩ ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে।

রুয়ান্ডা দীর্ঘদিন ধরে এম২৩-কে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করছে। তবে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুয়ান্ডার সেনারা এম২৩-এর সামরিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্রোহীরা ২০১২ সালে পুনর্গঠন করে এবং এবার গোমা শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করেছে।

দুই দেশের সরকার জনসম্মুখে চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দিয়ায় তাদের ওপর জবাবদিহি বাড়বে। কঙ্গো ও রুয়ান্ডার জনগণ শান্তি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় উদ্বুদ্ধ। দীর্ঘসময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে পূর্বাঞ্চলের সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি, বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি এবং বাস্তুচ্যুতির সমস্যায় পড়েছে। এই চুক্তি যদি কার্যকর হয়, তবে এটি কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। দুই দেশের সরকারকে চুক্তি অনুসারে কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পূর্বাঞ্চলের নাগরিকরা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

কঙ্গো ও রুয়ান্ডার মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং সংঘর্ষ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হলে আফ্রিকায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধির পথ খুলবে। দুই দেশের নেতাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনই নির্ধারণ করবে এই চুক্তির সফল বাস্তবায়ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত