প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার ট্যাংকারে ধারাবাহিক হামলার পর তুরস্ক রাশিয়া ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনসি বৃহস্পতিবার জানান, দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উভয় দেশের কূটনীতিকদের তলব করা হয়েছে এবং হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
বেরিস একিনসি সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনের কাছে জানান, “সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন একে-অপরের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এ হামলার মধ্যে কৃষ্ণ সাগরের ঘটনাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তাই আমরা উভয় দেশের কূটনীতিকদের আমাদের উদ্বেগ জানাতে তলব করেছি।” তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় তুরস্ক কোনো ধরনের হামলা বা সংঘাতকে সমর্থন করবে না।
এর আগে ২ ডিসেম্বর রাশিয়ার জাহাজ ‘মিডভোলগা-২’ তুরস্কের উপকূল থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এই হামলার পূর্বে, ২৮ নভেম্বর, রাশিয়ার দুটি ট্যাঙ্কার ২৮ এবং ৩৮ নটিক্যাল মাইল দূরে তুরস্কের উপকূলবর্তী সমুদ্র অঞ্চলে আক্রমণের শিকার হয়। ওই হামলায় ট্যাংকারে আগুন লেগে যায়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ১ ডিসেম্বর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথের শান্তি বিঘ্নিত করে।” প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পরপরই দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করেছে।
উভয় দেশের সাথে তুরস্কের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। কৃষ্ণ সাগরে ঘটছে এই ধরণের হামলা কেবল তুরস্ক নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক নৌপথকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। সাম্প্রতিক হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তুর্কি কূটনীতিকদের মতে, হামলার ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য, পরিবহণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। তুরস্কের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতদের তলব করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা বহন করে যে, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তুরস্কের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নাটকীয় হামলার পরপরই তুরস্কের নৌ ও প্রতিরক্ষা বিভাগ অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে এবং আঞ্চলিক নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তুরস্কের পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর, এবং এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যিক রুটে ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্কের এই পদক্ষেপ কেবল কূটনৈতিক সতর্কতা নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধি রোধ করতে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তুরস্কের তলবের পর, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কূটনীতিকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশকে তাদের নৌ সামর্থ্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ তুরস্কের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও আকর্ষণ করেছে।
এই পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তুরস্কের স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। কূটনীতিকরা বলছেন, তুরস্কের তলব প্রমাণ করে যে, আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দেশটি নৌ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
তুরস্কের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সামুদ্রিক হামলাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা হবে না। এটি রাশিয়া ও ইউক্রেনকে তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।