২০২৬ সালে সৌদি আরবের বাজেট ৩৫০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার
২০২৬ সালে সৌদি আরবের বাজেট কত

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সৌদি আরবের মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের জন্য দেশটির বাজেট অনুমোদন করেছে, যা ১.৩১৩ ট্রিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এবার ঘোষিত বাজেটের মধ্যে ৩০৬ বিলিয়ন ডলার আসবে রাজস্ব খাত থেকে এবং বাকি ৪৪ বিলিয়ন ডলার হবে বাজেট ঘাটতি।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাজেট অনুমোদনের পর বলেন, ভিশন ২০৩০ কার্যক্রমের কারণে দেশের তেল-অনির্ভর অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বেসরকারি খাতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই বাজেট দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের অর্থনীতি ৪.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজেট ঘাটতির হার জিডিপির ৩.৩ শতাংশে পৌঁছাবে। সরকারি ঋণ ৪৩২.১২ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ৩২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সৌদি আরবের এই বাজেট দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তেলমূল্য অস্থিরতার মধ্যে তেলের বাইরে অর্থনীতির উন্নয়ন, বেসরকারি খাতের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিশোধনযোগ্য ঘাটতির সীমাবদ্ধকরণ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

ভিশন ২০৩০–এর আওতায় সৌদি আরব শিল্প, পর্যটন, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য নন–অয়েল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উল্লেখ করেন, এই বাজেট বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের জনগণের জীবনমান উন্নতিতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে সৌদি আরবের অবস্থানকে শক্তিশালী করা হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে সৌদি আরবের সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। বিশেষ করে তেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া প্রধান উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

রাজস্ব ও ব্যয়ের ভারসাম্য, বেসরকারি খাতের ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালা এই বাজেটের মূল ভিত্তি। এর ফলে দেশের যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষকরা আশাবাদী যে, ২০২৬ সালের বাজেট সৌদি আরবকে একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে। বাজেটের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে সৌদি আরব বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।

সৌদি আরবের সরকারের মতে, বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও স্বাবলম্বী করা সম্ভব হবে। দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি কমানো, সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মাধ্যমে সৌদি আরব ২০৩০ সালের ভিশনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও কাছে পৌঁছাবে।

২০২৬ সালের বাজেটের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারে আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাজেট সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক আর্থিক মানচিত্রে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত