গাজায় অভিযান শেষে ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তার আত্মহত্যা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানের অংশ নেওয়া এক ইসরাইলি রিজার্ভ ফোর্সের কর্মকর্তা নিজেই জীবন শেষ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) থমাস এডজগোস্কাস নামের ওই কর্মকর্তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গাজায় বিভিন্ন স্থল অভিযান পরিচালনার পর তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শেষপর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই ঘটনা সামরিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংকটকে আবারও সামনে এনেছে।

ইসরাইলি পত্রিকা হায়োম জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী থমাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি গিভাতি ব্রিগেডের সঙ্গে একাধিক স্থল অভিযানেও অংশ নেন। এই সামরিক অভিযানের সময় ও পরবর্তী অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনারা ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হন, যা অনেক সময় পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) সৃষ্টি করে।

থমাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন যে তিনি ‘আর বেঁচে থাকতে পারবেন না এবং বিধ্বস্ত ও পরাজিত’ বোধ করছেন। তিনি তার মানসিক অবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে এই বার্তাটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিলেন এবং সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করছিলেন। এটি সামরিক পরিবেশে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের একটি শোকাবহ উদাহরণ।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকাশিত ইসরাইলের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৮ মাসের মধ্যে সামরিক কর্মীরা মোট ২৭৯ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ সময়ে অন্তত ৩৬ জন সৈন্য আত্মহত্যা করে মারা গেছেন। সামরিক পর্যালোচনা থেকে জানা গেছে যে এই ধরনের ঘটনার অধিকাংশই গাজা ও অন্যান্য সংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালানো সেনাদের মধ্যে ঘটেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া ভয়াবহতা, সহকর্মীদের মৃত্যু, এবং দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপ সামরিক কর্মীদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

সামরিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজার মতো উচ্চসংঘর্ষপূর্ণ এলাকায় সেনাদের ওপর যে মানসিক চাপ পড়েছে, তা অনেকের পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে ওঠে। যুদ্ধপরবর্তী মানসিক চিকিৎসার অভাব এবং সামরিক সহকর্মীদের চাপ আরও পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। সামরিক বাহিনীতে মানসিক স্বাস্থ্য সমর্থন এবং পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা না থাকলে এই ধরনের দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

গাজা অভিযান শেষে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মানসিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত সাইকোলজিক্যাল চেকআপ এবং সংকটকালীন সহায়তা ব্যবস্থা জরুরি। থমাসের মতো যুবকদের মানসিক ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে, শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো সামরিক ইউনিটের কর্মক্ষমতা ও মনোবলেও প্রভাব পড়ে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নথি ও সাম্প্রতিক পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, গাজার অভিযানে অংশ নেওয়া সেনারা বারবার শারীরিক ও মানসিক ট্রমার সম্মুখীন হয়েছেন। দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা, সহকর্মীর মৃত্যু, সাধারণ নাগরিকদের বিপদগ্রস্ত পরিস্থিতি এবং নিজের জীবনের জন্য ভয়—all combined মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। থমাসের মৃত্যু এই বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

অবশেষে, থমাস এডজগোস্কাসের আত্মহত্যা কেবল একটি ব্যক্তিগত দুঃখজনক ঘটনা নয়, এটি সামরিক বাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা এবং সেনাদের মানসিক সহায়তার গুরুত্বকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরে। যুদ্ধক্ষেত্রে মানসিক চাপ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তবায়িত সমাধানগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব।

এ ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে যুদ্ধের শিকার শুধু ফিজিক্যাল নয়, মানসিক ও নৈতিক প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী। তাই গাজা ও অন্যান্য সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে নিয়োজিত সেনাদের জন্য যথাযথ মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য মনিটরিং ব্যবস্থা তৈরি করা একান্ত প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত