শনি গ্রহের চাঁদ গবেষণার জন্য মহাকাশযান পাঠাবে ইএসএ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) শনি গ্রহের বরফে আবৃত চাঁদ এনসেলাডাস থেকে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ মহাকাশ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী মিশনের আওতায় শনি গ্রহে দুটি মহাকাশযান পাঠানো হবে—একটি অরবিটার এবং একটি ল্যান্ডার। ল্যান্ডার মহাকাশযানটি সরাসরি এনসেলাডাসের প্রাকৃতিক প্লাম বা জলীয় বাষ্প থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে, আর অরবিটার চাঁদের ওপর থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মানচিত্র তৈরি করবে এবং বরফের নীচে মহাসাগরের সম্ভাব্য উপস্থিতি ও রাসায়নিক উপাদানের পরিসংখ্যান নথিভুক্ত করবে।

এনসেলাডাস ছোট বরফে আবৃত একটি চাঁদ। যুক্তরাষ্ট্রের নাসা সংস্থার ক্যাসিনি মিশনের মাধ্যমে জানা গেছে, এর ভূ-পৃষ্ঠের নীচে বিস্তীর্ণ মহাসাগর থাকতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ইএসএ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে চাঁদটির প্রাকৃতিক প্লাম বা বরফ এবং জলীয় বাষ্পে উপস্থিত রাসায়নিক যৌগ এবং সম্ভাব্য জৈব উপাদান খুঁজে বের করা গেলে ভিনগ্রহে জীবন থাকা বা তার অস্তিত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব। মিশনটি বহির্জাগতিক জীবনের চলমান অনুসন্ধানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

এই অভিযানে দুটি মহাকাশযানের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় থাকবে। অরবিটার উপরের স্তর থেকে এনসেলাডাসের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে, যার মধ্যে রয়েছে পৃষ্ঠের মানচিত্র, পানির রাসায়নিক উপাদান এবং শনি গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে চাঁদটির মিথস্ক্রিয়া। একই সময়ে ল্যান্ডার টাইগার স্ট্রাইপস অঞ্চলের কাছাকাছি অবতরণ করে প্রাকৃতিক প্লাম থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করবে, যা চাঁদের পৃষ্ঠের নিচে থাকা মহাসাগরের গুণগত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইএসএর বিজ্ঞানী জর্ন হেলবার্ট জানিয়েছেন, ‘এনসেলাডাস এমন একটি স্থান, যেখানে আমরা সত্যিই মহাসাগরের সন্ধান পেতে পারি। এই মহাসাগরের উপস্থিতি প্রমাণিত হলে, এটি বহির্জাগতিক জীবনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য হবে।’ তিনি আরও বলেন, ল্যান্ডার এবং অরবিটার একসাথে কাজ করে তথ্যের দ্বৈত যাচাই নিশ্চিত করবে, যা একক যানের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হবে।

ইএসএ-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিশনটি সৌরশক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৪০-এর দশকে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। এরপর এটি দীর্ঘ আন্তগ্রহীয় যাত্রা শেষে ২০৫২ সালে এনসেলাডাসের পৃষ্ঠে পৌঁছে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু করবে। মিশনের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদের প্রাকৃতিক প্লাম থেকে জৈব যৌগ এবং সম্ভাব্য মাইক্রোবিয়াল জীবনের তথ্য সংগ্রহ করা, যা মানুষের বহির্জাগতিক জীবনের প্রতি ধারণাকে নতুনভাবে প্রভাবিত করবে।

এনসেলাডাসে মহাসাগর থাকলে এবং সেখানে জীবন থাকতে পারে—এই সম্ভাবনা অনেক বছর ধরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ক্যাসিনি মিশনের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদটির ভূ-পৃষ্ঠের নিচে বিশাল জলস্তর এবং তার মাধ্যমে উদ্ভূত প্লাম রয়েছে। এই প্লামগুলোতে থাকা রাসায়নিক যৌগগুলোর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা শনি গ্রহ ও এর উপগ্রহের মধ্যে রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য জীবনের সংকেত খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন।

এই উচ্চাভিলাষী মিশনের মাধ্যমে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা আশা করছে, শুধুমাত্র এনসেলাডাসের ভূ-তাত্ত্বিক গঠন বোঝা নয়, বরং পৃথিবীর বাইরে জীবন থাকা বা তার অস্তিত্বের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। মিশনটি বহির্জাগতিক জীবনের চলমান অনুসন্ধানে একটি বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সম্প্রদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত