এমবাপ্পে-হালান্ড লড়াইয়ে চমক দেখাবে সেনেগাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার
২০২৬ বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উত্তেজনা ধীরে ধীরে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় দখল করতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের জন্য দলগুলোর গ্রুপ ড্রও শেষ হয়েছে, এবং মাঠের লড়াইয়ের সময়সূচিও নিশ্চিত। এই আয়োজনকে ঘিরে বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজকের পর্বে নজর দেওয়া হলো ‘আই’ গ্রুপে, যেখানে আছে ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে এবং ফিফা প্লে-অফের দুই জয়ী দল—ইরাক, বলিভিয়া বা সুরিনাম।

গ্রুপ ‘আই’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চমকপ্রদ, কারণ এতে মুখোমুখি লড়বে সময়ের সেরা দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড। ফ্রান্সের এমবাপ্পে এবং নরওয়ের হালান্ডের লড়াই ফুটবল ভক্তদের জন্য এক বিরল দৃষ্টিনন্দন ম্যাচ উপহার দিতে যাচ্ছে। তবে শুধু এই দুই তারকার উপর নজর রাখা যথেষ্ট হবে না, কারণ আফ্রিকার ‘সিংহ’ সেনেগালও হতে পারে বড় চমক। তারা ২০২২ সালের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা দেখিয়েছে এবং এবারও শক্তিশালী দলের স্বীকৃতি পাবে।

ফ্রান্স ‘আই’ গ্রুপের স্পষ্ট ফেভারিট। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা দলটি ২০২২ সালে ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছে। দলের নেতৃত্বে আছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, র‍্যান্ডাল কোলো মুয়ানি, মাইকেল ওলিসে এবং এদুয়ার্ড কামাভিঙ্গা। ইউরোপের কঠিন বাছাই পর্বে ফ্রান্স ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ ড্র অর্জন করে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করেছে। তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সংহতি নিশ্চিতভাবেই মূল মঞ্চে বড় শক্তি হিসেবেই দেখা যাবে।

নরওয়ে গ্রুপের কঠিন প্রতিপক্ষ। ইউরোপীয় বাছাই পর্বে শীর্ষ স্থান অধিকার করে নরওয়ে ২৮ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরছে। ৮ ম্যাচে তারা সম্পূর্ণ জয় অর্জন করেছে এবং মোট ২৪ পয়েন্ট নিয়ে মূল আসরে যাচ্ছে। দলের সাফল্যের অন্যতম প্রধান নায়ক আর্লিং হালান্ড, যিনি ৮ ম্যাচে ৩৭টি গোল করেছেন, যার মধ্যে ১৬টি তার। নরওয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে আলেক্সান্ডার সরলথ ও লার্সেন রয়েছেন। এ দলে রয়েছে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক সংহতি।

সেনেগালও নির্দিষ্টভাবে অবহেলা করা যায় না। আফ্রিকার বাছাই পর্বে তারা ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে। দলটির প্রধান তারকা সাদিও মানে, যিনি লিভারপুল এবং বায়ার্ন মিউনিখে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং দক্ষতা ‘আই’ গ্রুপকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে।

ফিফা প্লে-অফের দুই জয়ী দল—ইরাক, বলিভিয়া বা সুরিনাম—কেউ আসলেও তারা বড় চমক ঘটাতে পারে। এই দলগুলোর উপস্থাপনা গ্রুপের লড়াইকে আরও আগ্রহজনক করে তুলবে।

ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, ১৬ জুন প্রথম ম্যাচে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে সেনেগালের সঙ্গে। পরের দিন নরওয়ে খেলবে ফিফা প্লে-অফ বিজয়ী দলের সঙ্গে। ২২ জুন ফ্রান্স খেলবে প্লে-অফ বিজয়ীর সঙ্গে, ২৩ জুন নরওয়ে বনাম সেনেগাল, আর ২৬ জুন একই সঙ্গে মাঠে নামবে নরওয়ে-ফ্রান্স এবং সেনেগাল বনাম প্লে-অফ বিজয়ী দল।

বিশ্বকাপের এই গ্রুপটি প্রতিটি ফুটবল ভক্তের জন্য নজরকাড়া। এমবাপ্পে এবং হালান্ডের লড়াই ছাড়াও সেনেগালের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, প্রতিরক্ষা সংহতি এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ এটি হয়ে উঠেছে এক আকর্ষণীয় গ্রুপ। ফ্রান্স ও নরওয়ের সঙ্গে আফ্রিকার শক্তিশালী দলের যুক্তি, এবং প্লে-অফ বিজয়ীদের সম্ভাব্য চমক—সব মিলিয়ে ‘আই’ গ্রুপকে রূপ দিয়েছে চমক, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মিশ্রণ।

ফুটবলপ্রেমীরা মুখিয়ে আছে এই মুখোমুখি লড়াই দেখার জন্য। এমবাপ্পে-হালান্ডের সেরা ফুটবল দক্ষতা, সেনেগালের শক্তিশালী আক্রমণ এবং নতুন বিশ্বকাপের উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে গ্রুপ ‘আই’ হয়ে উঠেছে ফুটবল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত