দক্ষিণ সিরিয়ার দখল ছাড়বে না ইসরাইল: নেতানিয়াহু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
সিরিয়ার দখল করা ভূখণ্ড ছাড়বে না ইসরাইল: নেতানিয়াহু

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার ঘোষণা করেছেন, দক্ষিণ সিরিয়ার দখলকৃত অঞ্চল থেকে তার দেশের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করবে না। নেতানিয়াহু বলেন, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের পরও ইসরাইল দখলকৃত এলাকায় তাদের উপস্থিতি বজায় রাখবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

নেতানিয়াহু বিশেষভাবে জাবাল আল-শেখ বা মাউন্ট হারমন এবং ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমি সংলগ্ন বাফার জোনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসরাইল এই অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এই অঞ্চলের সামরিকীকরণ ও সংরক্ষণের বিষয়ে দামেস্ক প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তি করার জন্য ইসরাইল আশা করছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দেশটি শুধুমাত্র নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এই এলাকায় তাদের উপস্থিতি বজায় রাখছে।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইলি সামরিক কার্যক্রম এই অঞ্চলে তীব্রতর হয়েছে। গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি বাহিনী তাদের দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ করে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল করেছে। বিশেষভাবে, ইসরাইলি বাহিনী গোলান মালভূমির কাছে বাফার জোনে প্রবেশ করেছে এবং সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ২৫ কিলোমিটার ভেতরে পর্যন্ত তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে।

গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে আছে। ১৯৭৪ সালে ইসরাইল এবং সিরিয়ার মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে বাফার এবং নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত। ইসরাইল বলছে, নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এটি তাদের জন্য অপরিহার্য, যেখানে সিরিয়া তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দাবি করে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এর আগে জানিয়েছিলেন, ইসরাইল যদি তাদের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে, তাহলে সিরিয়ার সঙ্গে কোনো চুক্তি করা হবে না। এই পরিস্থিতি ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপকে কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশও এই সংঘাতের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।

বিশ্ব রাজনীতিতে গোলান মালভূমি বহুবার বিতর্কিত হয়ে এসেছে। ইতিহাসে এই অঞ্চলটি সেনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া এই অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরাইলের উপস্থিতি এবং সিরিয়ার দাবির মধ্যে সমন্বয় না হলে, সামরিক সংঘাত বা সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

মানবিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। দখলকৃত অঞ্চলের স্থানীয় নাগরিকরা সামরিক উপস্থিতির কারণে সীমিত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সমস্যার মুখোমুখি। কৃষি, ব্যবসা এবং দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলো পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

ইসরাইলি দখলের রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবগুলো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসরাইল দক্ষিণ সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে কোনো অবস্থাতেই পিছিয়ে আসবে না। এটি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসংহারে, ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে এই ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এখনও সমাধান নেই। নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান এবং সিরিয়ার প্রত্যাহারের অনিচ্ছা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জটিলতাকে দীর্ঘমেয়াদি করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও মানবিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত