শিশুর ইনফেকশনে বাবা-মা কখনো করবেন না এই ৫ কাজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
শিশুর ইনফেকশনে বাবা-মা কখনো করবেন না এই ৫ কাজ

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিশুর জ্বর, কাশি বা সর্দি হলে পরিবারের পরিবেশই বদলে যায়। বাবা-মা দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে পেতে চায়। কিন্তু এই তাড়াহুড়োতে অনেক সময় এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার গতি কমিয়ে দেয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মিলিন্দ জামবাগি সম্প্রতি এক ভিডিওতে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভালোবাসা থাকলেও কিছু ভুলের কারণে শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

প্রথমত, ছোট বাচ্চাদের ঠান্ডা–কাশির ওষুধ বা কাশি বন্ধ করার ওভার-দ্য-কাউন্টার সিরাপ দেওয়া ঠিক নয়। অনেক বাবা-মা দোকান থেকে সহজে পাওয়া ওষুধ দিয়ে সন্তানের আরাম দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডা. জামবাগি বলেছেন, এসব ওষুধ ভাইরাস কমাতে পারে না এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং নুন–পানির স্প্রে, স্যালাইন নেবুলাইজেশন, গরম ভাপ দেওয়ার মতো প্রাকৃতিক পদ্ধতি শিশুদের শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। এক বছরের বেশি বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে সামান্য মধুও ব্যবহার করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয় যদি ডাক্তার নির্দেশ না দেন। অনেক বাবা-মা মনে করেন ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক দ্রুত সুস্থ করে। কিন্তু ভাইরাসের ক্ষেত্রে এগুলো কার্যকর হয় না। এছাড়া অযথা অ্যান্টিবায়োটিক দিলে ভবিষ্যতে তা কম কার্যকর হতে পারে। পুরনো প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। ডা. জামবাগি বলেছেন, শরীরকে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার সময় দিতে হবে।

তৃতীয়ত, শিশুকে খেতে জোর করা ঠিক নয়। ভাইরাল সংক্রমণে ক্ষুধা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। জোর করে খাওয়ালে শিশু আরও বিরক্ত হয়। এই সময়ে জলীয় খাবারের মাধ্যমে হাইড্রেশন বজায় রাখা বেশি জরুরি। পানি, স্যালাইন, গরম স্যুপ, ডাবের পানি, ডাল ইত্যাদি তরল জাতীয় খাবার দিয়ে শরীর ঠিক রাখা যেতে পারে। শিশুর ক্ষুধা স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর ফিরে আসে।

চতুর্থত, অসুস্থ শিশুকে খুব তাড়াতাড়ি স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। অনেক বাবা-মা মনে করেন, জ্বর কমেছে মানেই স্কুলে পাঠানো যাবে। কিন্তু বিশ্রামই সবচেয়ে জরুরি। শিশুর জ্বর, দুর্বলতা, খাওয়া–পানায় অসুবিধা থাকলে বাসায় রাখা উচিত। তাড়াহুড়ো করলে সুস্থ হতে আরও সময় লাগে, এবং অন্যান্য শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে।

পঞ্চমত, অসুস্থ অবস্থায় রুটিন নষ্ট হওয়া নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা উচিত নয়। শিশুর ঘুম, খাবার, স্ক্রিন টাইম সবই সাময়িকভাবে বদলে যায়। ডা. জামবাগি বলেছেন, এই সময় নিয়মের চেয়ে আরামই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যদি বেশি আদর চায় বা স্ক্রিনে কার্টুন দেখতে চায়, এতে কোনো সমস্যা নেই। সুস্থ হলে সব আবার স্বাভাবিক হবে।

শিশুর ভাইরাল সংক্রমণে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, সচেতন যত্নই মূল বিষয়। পর্যাপ্ত হাইড্রেশন, বিশ্রাম এবং সঠিক সিদ্ধান্ত শিশুর দ্রুত সুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। বাবা-মা যদি এই পাঁচটি ভুল এড়িয়ে চলেন, তবে শিশু স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী থাকবে। ভালোবাসা থাকলেই যত্ন দেওয়া কঠিন নয়, শুধু সঠিক পথ অনুসরণ করলেই যথেষ্ট।

ডা. জামবাগির এই পরামর্শ শিশুদের নিরাপদ ও দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট ভুলও শিশুর চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই বাবা-মায়ের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশু যত্নে সচেতন থাকা। শিশু সুস্থ হলে পরিবারের পরিবেশও স্বাভাবিক হয় এবং ছোট ভাইরাসজনিত অসুস্থতা দ্রুত কমে যায়।

মোটকথা, শিশুর ইনফেকশনে বাবা-মা যখন প্রতিদিনের প্রাকৃতিক ও নিরাপদ যত্ন প্রয়োগ করেন, তখন সুস্থ হওয়া সহজ হয়। ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, জোর করে খাওয়ানো, তাড়াহুড়োতে স্কুল পাঠানো এবং রুটিন নিয়ে অতিরিক্ত চাপ—এই পাঁচটি কাজ একদমই করা উচিত নয়। সচেতনতার সঙ্গে ছোট যত্নশীল পদক্ষেপ শিশুর স্বাস্থ্যকে দ্রুত ফিরিয়ে আনে এবং পরিবারকে শান্ত রাখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত