প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুইদিনের ভারত সফর শেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। তবে সফর শেষ হবার পরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে তার খাবার মেন্যু। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক খাবারের মধ্যে স্থান পেয়েছে বিরল প্রজাতির ‘গুছি দুন সেতিন’ মাশরুম। এই মাশরুম খাওয়ার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচেতন পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের মতে, পুতিন ৪ ডিসেম্বর ভারতে পৌঁছান এবং ৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যান। এই দুইদিনের সফরে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাকে স্বাগত জানান এবং নৈশভোজে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিখ্যাত আঞ্চলিক খাবারের আয়োজন করা হয়। নৈশভোজের মেন্যুতে পশ্চিমবঙ্গের নলেন গুড়ের সন্দেশ, পাঞ্জাবের ডাল-তড়কা, দক্ষিণ ভারতের মুরুক্কু, মহারাষ্ট্রের আচারি বেগুন, জাফরানি পনির এবং পালং মেথি মটর শাক ছিল। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ নেপালের ঝোল মোমোও রাখা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘গুছি দুন সেতিন’।
গুছি মাশরুম একটি বিরল প্রজাতির ছত্রাক, যা মূলত জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে। এটি সহজলভ্য নয় এবং প্রতি কেজির দাম ৩৫-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কখনও কখনও এর দাম ৫০ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন ডি, বিভিন্ন ধরনের বি ভিটামিন, খনিজ এবং প্রদাহনাশক উপাদান। তাই প্রাচীনকাল থেকেই হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় এ মাশরুমকে ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গুছি মাশরুম ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের অসুখ এমনকি শারীরিক আঘাতও দ্রুত উপশম করতে পারে। পাশাপাশি এটি ডায়াবেটিস ও ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী। নিয়মিত ব্যবহার করলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়, মানসিক চাপ কমে, ত্বক সতেজ থাকে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। স্বাদে মাংসের মতো হওয়ায় স্যুপ, ঝোল তরকারি, পোলাও ও বিরিয়ানি তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়।
ভারত সফরে পুতিনের এই খাবার মেন্যু কেবল কূটনৈতিক বন্ধুত্বের প্রতীক নয়, বরং এটি দেশের আঞ্চলিক খাদ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকেও তুলে ধরে। বিশেষ করে ভারতীয় আঞ্চলিক খাবারের আয়োজন তাদের খাদ্যশিল্পের ধনসম্পদ এবং পুষ্টিগুণের ওপর আন্তর্জাতিক নজর আকর্ষণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টি, পাঞ্জাবের ডাল-তড়কা, দক্ষিণ ভারতের মুরুক্কু, মহারাষ্ট্রের আচারি বেগুন ও হিমালয় অঞ্চলের গুছি মাশরুম একসাথে সমৃদ্ধ খাদ্যরসিকতার পরিচয় দেয়।
এই মেন্যুতে মাশরুমের বিশেষ স্থান পেতেই বিশেষ আলোচনা হয়েছে। গুছি মাশরুমের স্বাদ, পুষ্টি এবং ঔষধি গুণের কারণে এটি শুধুমাত্র খাদ্য নয়, স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। এর স্বাদ মাংসের সমান হওয়ায় এটি নিরামিষ খাদ্য প্রেমীদের জন্যও আকর্ষণীয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খাবারের বৈচিত্র্য এবং উচ্চমানের উপকরণ ব্যবহার করে এমন একটি নৈশভোজ আয়োজন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি খাদ্যসংস্কৃতির প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুতিনের এই ভারত সফর ও খাবার মেন্যু সামাজিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেন্যুতে স্থান পাওয়া প্রতিটি পদই দেশীয় উপাদান এবং আঞ্চলিক স্বাদের সংমিশ্রণ হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করেছে। বিশেষ করে গুছি মাশরুমের অন্তর্ভুক্তি বিদেশী অতিথিদের কাছে ভারতীয় খাদ্য ও ঔষধি গুণের ওপর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ভাইরাল হওয়ার পর অনলাইন ব্যবহারকারীরা ভারতীয় আঞ্চলিক খাদ্য এবং গুছি মাশরুমের স্বাস্থ্য ও স্বাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে নানা আলোচনা শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুছি মাশরুমের নিয়মিত ব্যবহার সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক এবং এটি খাদ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনের মেন্যুতে এ মাশরুমের অন্তর্ভুক্তি ভারতের ঔষধি ও খাদ্যশিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরেছে।
ভারত সফরের এই নৈশভোজ কেবল কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক নয়, বরং এটি দেশীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচেতনতাকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছে। গুছি মাশরুমসহ ভারতের আঞ্চলিক খাবারের সমন্বয় আন্তর্জাতিক অতিথিদের কাছে দেশের স্বাদ ও পুষ্টি প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।