প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নামটি হলো আরহাম ইসলাম। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এই ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার বাংলাদেশের লাল সবুজ জার্সি গায়ে তোলার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও, অজানা কারণে দেশীয় বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পায়নি। তবে তার প্রতিভা এবং খেলার দক্ষতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর এড়াতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দল।
আরহাম ইসলাম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেড অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে নিয়মিত খেলে আসছেন। বয়সভিত্তিক দলে বাংলাদেশের হয়ে সুযোগ না পাওয়া সত্ত্বেও তার খেলার দক্ষতা এবং দ্রুত উন্নতি অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে। বিশেষ করে তার পজিশন এবং খেলার ধরণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। দেশের ফুটবল মহলে যিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নতুন করে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
ডিসেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এসবিএস কাপের জন্য আরহামকে ডাক দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দল। এই টুর্নামেন্টে তার প্রথম ম্যাচ হবে ১৮ ডিসেম্বর, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে স্পেনের অনূর্ধ্ব-২০ দলের। দ্বিতীয় ম্যাচ ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাপানের শিজুওকা প্রিফেকচারের ঘরোয়া দলের সঙ্গে। এবং টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২১ ডিসেম্বর, যেখানে আরহাম এবং তার দল জাপানের মূল দলের বিরুদ্ধে খেলবে।
টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন রিচার্ড গার্সিয়া। মূল হেড কোচ ট্রেভর মরগান এই টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তিনি বর্তমানে ফুটবল অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্বর্তী প্রযুক্তিগত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতি নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং আরহামের জন্য এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের খেলার দক্ষতা দেখানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আরহাম ইসলামের আন্তর্জাতিক ডাক কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যও গর্বের বিষয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে বিদেশের উচ্চ মানের প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাওয়া দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ফুটবলের ঘরোয়া দলে প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিকভাবে তার স্বীকৃতি প্রমাণ করছে যে প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশি ফুটবলের ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল, যেখানে দেশীয়ভাবে সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড় বিদেশের তরুণ জাতীয় দলে ডাক পায়। এটি শুধু আরহামের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের ফুটবলপ্রতিভার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক। তার এই অর্জন দেশের যুব ফুটবলপ্রেমীদের নতুন উদ্দীপনা যোগাবে এবং বিদেশে নিজস্ব জায়গা তৈরি করার জন্য প্রেরণা জোগাবে।
বিশ্ব ফুটবলের মানদণ্ডে প্রতিযোগিতা কঠোর, এবং আরহামের এই ডাক তার খেলার ক্ষমতা, নৈপুণ্য এবং মনোবলকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরবে। তার ডাক অস্ট্রেলিয়া দলে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আন্তর্জাতিক চেহারা দেয়ার পাশাপাশি বিদেশি মঞ্চে দক্ষতা প্রদর্শনের সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।
টুর্নামেন্টের আগে এবং পরে আরহামের পারফরম্যান্স কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, বরং বাংলাদেশের যুব ফুটবল প্রোগ্রামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশের অগণিত যুব ফুটবল খেলোয়াড়রা তার উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজস্ব জায়গা তৈরি করার লক্ষ্য স্থির করবে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আরহামের ডাক নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই যুব ফুটবলার তার খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, যা দেশীয় ফুটবলের জন্য গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার খেলার সুযোগ কেবল তার প্রতিভা নয়, দেশের ফুটবল ব্যবস্থার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।
আরহাম ইসলামের এই অর্জন বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলো এবং সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি প্রমাণ করে যে দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন তার ওপর, এবং ১৮ ডিসেম্বর স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষা দেশের ফুটবলভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে।